রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন

উলিপুরের হাতিয়ায় তালাক দেয়া প্রাক্তন স্ত্রী কে গুরুতর নির্যাতনের অভিযোগ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২০

কুড়িগ্রামে উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের গাবুরজান গ্রামের মৃত নজির হোসেনের পুত্র মোঃ আশরাফ আলী(৩৫) বোন ও মায়ের যোগসাজশে তার তালাকপ্রাপ্তা প্রাক্তন স্ত্রীকে গুরুতরভাবে শারিরীক নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে বিয়ে পড়ানোসহ মীমাংসার কথা বলে পাষণ্ড আশরাফকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে । নির্যাতিতার পিতা জানান, চেয়ারম্যান এর অসহযোগিতার কারনে তিনি এ পর্যন্ত আইনি সহযোগিতা নিতে পারেন নাই৷

গত ৩রা অক্টোবর রাতে ঐ মহিলার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তালাকপ্রাপ্ত স্বামী আশরাফ দৈহিক মিলনের প্রস্তাবে নাকচ করলে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তার বোন ও মা সহযোগিতা করে বলে জানায় ঐ নির্যাতিতা। পাষন্ড আশরাফ তার বোন ও মায়ের সহযোগিতায় মুখে কাপড় গুঁজে বেধে রড দারা এলোপাতাড়ি মারপিট করলে মহিলা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন৷ পরেরদিন ৪ ঠা অক্টোবর সকালে পিতা আবুল হোসেন খবর পেয়ে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মেয়েকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উলিপুর সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।

নির্যাতিতার পিতা বৃদ্ধ আবুল হোসেন কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, খোলা তালাক হওয়ার বছর দুইএক পর আশরাফ ও তার বোন গোপনে আমার মেয়ের মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে বিভিন্ন সময় ফোনে কথা বলতো। পুনরায় নিকাহ করে ঘরসংসার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেয়েকে চট্টগ্রাম থেকে নিয়ে এসে গাজীপুরে বাড়ি ভাড়া করে পুরো তিন বৎসর অবৈধভাবে ঘর সংসার করে৷ এ সময় আশরাফ একটা কাবিন নামা তৈরি করে। যা ভুয়া বলে আমার মেয়ে বুঝতে পারলে বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করে। একসময় আশরাফ বাড়িতে নিয়ে এসে বিয়ে করতে রাজী হয়।

১ লা অক্টোবর ২০২০ ইং তারা উভয়ে আসে এবং আশরাফের বাড়িতে ওঠে। হাতিয়ার গাবুরজান ছেলের বাড়িতে বিয়ে পড়ানো ও রেজিষ্ট্রেশন ছারা তার সাথে দৈহিক মিলনে রাজী না হওয়ায় এবং নিকাহের অব্যাহত চাপে ক্ষিপ্ত হয়ে এই পৈশাচিক ঘটনা ঘটিয়েছে আশরাফ এমন ধারনা আত্মীয়স্বজন দের।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের আবুল হোসেনের মেয়ের সাথে মৃত নজির হোসেনের পুত্র মোঃ আশরাফ আলীর ২০০৯ ইং সালে বিয়ে হয়। আখি মনি (০৯) নামে তাদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। দাম্পত্য কলহ ও বনি বনার অভাবে চার বছরের মাথায় ২০১৩ ইং তাদের খোলাতালাক হয়৷ তখন থেকে আশরাফ গাজীপুরে ব্যবসা আর আখির মা চট্টগ্রাম গার্মেন্টসে চাকুরী করতো। পুরাতন অনন্তপুর এলাকার আবজাল জানান, আশরাফ ও আবুল হোসেনের মেয়ে তিন বছর থেকে গাজীপুরে ঘর সংসার করছে তা লোকমারফত শুনলেও বিয়ে না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত ছিলাম না। তার নয় বছর বয়সের মেয়েটির মুখের দেখে তাকিয়ে মা তার বাবা আশরাফের সংসারে আসার প্রস্তাবে সায় দিয়েছিলো বলে সকলের ধারনা। আশরাফ আলীর এমন অনৈতিক মেলামেশা সহ প্রতারনা ও বৈবাহিক বৈধতা ছারা ঘরসংসার করে খাওয়া এবং পৈশাচিক নির্যাতনের বিচার দাবী করেছেন নির্যাতিতার বাবা আবুল হোসেন সহ এলাকাবাসী।

উলিপুর হাতিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হোসেনের সাথে মোবাইল ফোনে তার বিরুদ্ধে মীমাংসার নামে ছেলে ভাগিয়ে দেয়ার বিষয়ে বক্তব্য নেয়ার চেষ্ঠা করা হয়। কিন্তু তাকে বেশ কয়েকবার ফোনে কল দিয়েও ( ০১৭৮৩….০৪) পাওয়া যায় নি।

অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত কারী কর্মকর্তা উলিপুর থানার এস আই আতিকুর রহমান আতিক ঘটনার বিষয়ে কিছু না বলে জানান, আজ স্বন্ধায় বাদীকে থানায় আসতে বলা হয়েছে।

এ রিপোর্ট লেখার পুর্বে বাদী ও তার মেয়ের সাথে কথা বলে জানা গেছে উলিপুর সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল হাসান মাহমুদ ঘটনার বিবরন জেনে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন।

উলিপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মোয়াজ্জেম হোসেন জানান অভিযোগ পেয়ে ঘটনার তদন্ত করা হয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 dainikjonokotha.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com