বৃহস্পতিবার, ০৫ অগাস্ট ২০২১, ০৪:১২ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:

পুলিশি নির্যাতনে রায়হান হত্যা; জড়িতদের গ্রেপ্তারে ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম

ডেস্ক রিপোর্ট
  • Update Time : রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২০

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে নিহত রায়হান হত্যার ৮ দিন পেরিয়ে গেছে। অথচ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এমন বাস্তবতায় রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এলাকাবাসী ও নিহত রায়হানের পরিবার।

সংবাদ সম্মেলনে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনে নিহত রায়হান হত্যার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারে তারা ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেয়। না হলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারিও দিয়েছে তারা। এসময় তারা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তেরও দাবি জানান।

নগরীর আখালিয়াস্থ নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে রায়হানের মা বলেন, ‘রায়হান হত্যাকাণ্ডে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক সিলেটের মাধ্যমে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছি।’

সংবাদ সম্মেলনে রায়হানের মা সালমা বেগম আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত এসআই আকবরসহ জড়িত পুলিশ সদস্যদের গ্রেপ্তারের হুশিয়ারি দেন। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার না করা হয় তাহলে আখালিয়া এলাকাবাসীর উদ্যোগে হরতাল, সড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা দেয়া হবে এবং এর দায়ভার সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশকে নিতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘পুরো ঘটনার ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কর্তৃক একটি পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য প্রদান করতে হবে। একই সাথে এসআই আকবরকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের আইজিপির নির্দেশ কামনা করছি।’

সংবাদ সম্মেলনে নিহত রায়হানের পরিবারের পক্ষ থেকে ছয়টি দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, রায়হান হত্যাকাণ্ডে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন, হত্যায় জড়িত পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর ভূঁইয়াসহ দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, পলাতক এসআই আকবর ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তারে আইজিপির নির্দেশ, সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনারের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য প্রদান এবং নিহতের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, স্থানীয় কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরান, ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, ১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারেক উদ্দিন তাজ, ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইলিয়াসুর রহমান, কাউন্সিলর তৌফিক বক্স লিপন, নারী কাউন্সিলর রেবেকা বেগম, সাবেক কমিশনার জগদীশ দাশ ও রায়হানের চাচা হাবিবুল্লাহ প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, রায়হান উদ্দিন নামের ওই যুবককে বন্দরবাজার থানা পুলিশ গত শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকালে আটক করে। ওই দিন রাতে ফাঁড়িতে তার ওপর নির্যাতন চালায় পুলিশ এবং তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য টাকা দাবি করে। ভোরে অপরিচিত একটি মোবাইল থেকে ছেলের ফোন পায় রায়হানের বাবা। তাতে ওই ফাঁড়িতে তাকে আটকে রেখে ছেড়ে দেওয়ার জন্য টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে জানায় রায়হান। বাবাকে টাকা নিয়ে এসে তাকে উদ্ধারের অনুরোধও করে রায়হান। ছেলেকে বাঁচাতে ভোরে তার বাবা টাকা নিয়ে ওই ফাঁড়িতে গেলে তাকে জানানো হয় রায়হান এখন ঘুমাচ্ছে, সকাল ১০টার দিকে আসতে হবে। পরে সকাল ১০টা দিকে গেলে তাকে বলা হয় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে যেতে। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন তার ছেলে মারা গেছে। এরপর মৃত ছেলের শরীরে নির্যাতনের ভয়াবহ চিহ্ন দেখতে পান তিনি। রায়হানের হাতের নখগুলোও উপড়ানো ছিল। পুলিশ এরপর দাবি করে রায়হানকে ছিনতাইকারী সন্দেহ করে জনতা গণপিটুনি দেওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। তবে সিটি করপোরেশনের ফুটেজে এর কোনো প্রমাণ মেলেনি। রোববার সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজে তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। বিকালে ৩টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। এশার নামাজের পর জানাজা শেষে তার লাশ পারিবারিক গোরস্তানে দাফন করা হয়। রায়হানকে পুলিশ হেফাজতে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনাটি রোববার থেকেই গণমাধ্যমে আলোচিত হচ্ছে। এ ঘটনায় সিলেট কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি। মামলা দায়েরের পর এর তদন্তভার দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)। এ ঘটনায় বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর থেকেই পলাতক রয়েছেন আকবর।

এদিকে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে মারা যাওয়া রায়হান আহমদের শরীরে ১১১টি আঘাতের চিহ্ন পেয়েছেন ময়না তদন্তকারী চিকিৎসকরা। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট শরীরে ১১১টি আঘাতের চিহ্নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

যার মধ্যে ১৪টি গুরুতর আঘাত উল্লেখ করে ময়না তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, রায়হানের দুইটি আঙুলের নখ উপড়ে ফেলা হয়। মৃত্যুর দুই থেকে চার ঘণ্টা আগে এসব নির্যাতন চালানো হয়।

এছাড়া তার শরীরে চামড়ার নিচ থেকে প্রায় দুই লিটার রক্ত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন। সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. শামসুল ইসলাম। ফরেনসিক বিভাগ থেকে ময়না তদন্তের রিপোর্ট পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 dainikjonokotha.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com