রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ০৩:১১ পূর্বাহ্ন

সরিষাবাড়ীতে শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল

মোঃ জহুরুল ইসলাম ভূঁইয়া, জামালপুর প্রতিনিধি
  • Update Time : রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২০

১৮ অক্টোবর রবিবার বঙ্গবন্ধু পুত্র শেখ রাসেলের ৫৭তম জন্মদিন উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল ও দুঃস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন সরিষাবাড়ী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও সরিষাবাড়ী পৌর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এম. মঞ্জুরুল মোর্শেদ তরফদার সোহেল।

এ মিলাদ মাহফিলে সোহেল তরফদার তার বক্তৃতায় বলেন-
আজ সকালে পুবের আকাশ কি লাল হয়ে উঠেছিলো রাসেলের রক্ত মেখে?

আজ রাতে যে তারার বুটি আকাশ জুড়ে ফুটবে, তার ভেতর সবচেয়ে উজ্জ্বল তারাটি কি রাসেলের মুখ হয়ে হাসবে? আকাশের কাছ থেকে উদারতার শিক্ষা নেয়ার কথা ছিল তার । বিস্ময়ভরা চোখ নিয়ে সে হয়তো দেখতো সকালের সূর্যোদয়। পূর্ণিমা রাতের ভরা চাঁদ তার মনে কোন প্রশ্নের জন্ম দিত কিনা তা আমাদের জানা হয়নি, কিন্তু কল্পনা করতে পারি, সেই শিশুটি নিজের জগতে ছিল রাজা। রাজনৈতিক পরিবারে মানুষের যাওয়া আসা, তাদের সঙ্গে তার পরিচয়ের পরিধি নিশ্চয়ই বাড়ছিল। এভাবে বেড়ে উঠতে উঠতে সেই শিশুটি কোন স্বপ্ন দেখছিল কিনা, তা আমাদের অজানা । তবে বলতে পারি, তার মায়াবী চোখ নজর কাড়া মুখচ্ছবি সবাইকে আকর্ষণ করতো। এভাবেই বাবার আদর আর মায়ের স্নেহ বেড়ে ওঠা তার। বোনদের চোখের মনি সে।ছোটবেলা থেকেই আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব নিয়ে বেড়ে উঠছিল সে, নিজের একটা জগত ছিল তার । ছিল নিজের রাজ্য পট, সেখানে সে নিজেই ছিল রাজা । সেই শিশু রাজা নিজের রাজ্যে নিজেকে যখন গুছিয়ে নিতে শুরু করেছিল তখনই তাকে বিদায় নিতে হয় এই পৃথিবী থেকে ।

১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগস্ট বাংলাদেশের ঘটে যাওয়া বিশ্বের জঘন্যতম হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছিল শিশু রাসেল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এক আতঙ্কের মধ্যে ঘুম ভেঙে যায় তার, চারদিকে তখন কেবলই গুলির শব্দ, ঘাতকের গুলিতে প্রাণ দিয়েছেন বাড়ির সব সদস্য, কেউ যখন বেঁচে নেই তখনও শিশু রাসেল যেতে চেয়েছিল মমতাময়ী মায়ের কাছে । তাকে হত্যা করা হবে না, সেই অভয় চেয়েছিল সে, কিন্তু অবুঝ শিশু বোঝেনি, ঘাতকের প্রাণে মায়া থাকে না। অথচ নিতান্ত শৈশবেও এই শিশুটিকে যাপন করতে হয়েছে বন্দি জীবন । কিন্তু পাকিস্তানীদের হাতেও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়নি তার । কিন্তু এদেশের ঘাতকের নির্মম বুলেট বিদ্ধ করে তাকে।পরিবারের সদস্যদের সাথে প্রাণ দিতে হয় এই অবুঝ শিশুটিকে । কী অপরাধ ছিল শিশু রাসেলের ! জাতির জনকের সন্তান এই কি তার অপরাধ !! যে দেশের স্থপতি তার বাবা, যে দেশে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছে তার বাবার নামে , সেই দেশের বিপথগামী কিছু সেনা সদস্যরা তাকে হত্যা করে ক্ষমতার অন্ধলোভে। হায়রে রাজনীতি! বিশ্বকে সব শিশুর বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিলেন কবি সুকান্ত, কিন্তু সব শিশুর জন্য এখনও নিরাপদ নয় এই পৃথিবী, তবে আজকের এই দিনে, শেখ রাসেলের জন্মদিনে আমরা অঙ্গীকার করতে চাই.. বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে, মাননীয় তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা: মুরাদ হাসান এমপির সহযোগিতায় এই সরিষাবাড়ী পৌর শহরকে শিশুদের জন্য নিরাপদ, বাসযোগ্য শহর গড়ে তুলবো, ইনশাআল্লাহ ।

মিলাদ মাহফিলে বিশেষ মোনাজাতে শেখ রাসেল এবং বঙ্গবন্ধু ও ১৫ আগস্টের অন্যান্য শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়।

মোনাজাত শেষে অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করেন সোহেল তরফদার।

মিলাদ মাহফিল ও খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরিষাবাড়ী পৌরসভা ৪ নং ওয়ার্ডের সভাপতি জনাব হায়দার আলী, সরিষাবাড়ী বণিক সমিতির সভাপতি জনাব গোলাম মোস্তফা জিন্না, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরিষাবাড়ী পৌরসভা শাখার সম্মানিত তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক জনাব শফিকুল ইসলাম খোকন, সরিষাবাড়ী পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জনাব মঞ্জুরুল ইসলাম বিদ্যুৎ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জনাব সাইদুর রহমান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জনাব রবিউল ইসলাম, সাবেক চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান মাসুম সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

১৯৬৪ সালের এই দিনে শেখ রাসেল ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবনে জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে কিছু বিপথগামী জুনিয়র সেনা কর্মকর্তার হাতে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ শেখ রাসেল নৃশংসভাবে হত্যাযজ্ঞের শিকার হন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 dainikjonokotha.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com