রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন

ফুলবাড়ীতে গো-খাদ্যের সংকট; সাংবাদিককে দেখে নেওয়ার হুমকি প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার

এম আর মাহফুজ, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
  • Update Time : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২০

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে দীর্ঘদিন হতে টানা বর্ষণ আর দফায় দফায় বন্যার হানায় পঁচে নষ্ট হয়ে গেছে গবাদিপশুর অন্যতম প্রধান খাবার খড়। দীর্ঘদিন বিস্তৃর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে থাকায় মিলছেনা সবুজ ঘাসের দেখা। পাশাপাশি সব ধরনের গো- খাদ্যের দাম রেড়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন খামারি সহ প্রান্তিক গবাদিপশু পালনকারীরা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার খামারি ও প্রান্তিক কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিটি খড়ের আঁটি ১৬ থেকে ১৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও আবার ১২ থেকে ১৫ টাকা কেজি দরে খড় বিক্রি হচ্ছে। দাম যাই হোক খড় পাওয়াটাই এখন বড় কথা। খড় সংকটের এমন পরিস্থিতি উপজেলাবাসীর কাছে নতুন এক অভিজ্ঞতা। পাশাপাশি কয়েকদিন আগে ২ থেকে ৩ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া ধানের কুঁড়া এখন ১৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে গবাদিপশু পালনকারীদের।

বড়ভিটা ইউপি চেয়ারম্যান ও খামারি খয়বর আলী মিয়া বলেন, তার খামারে ১২ টি গরু ছিল। খড় সংকটের কারণে কয়েক লক্ষ টাকা লোকসান মেনে নিয়ে ৬ টি গরু বিক্রি করে দিয়েছেন। বাকি গরু নিয়েও পড়েছেন বিপাকে।একই গ্রামের খামারি বেলাল হোসেন জানান, তার খামারে ৩০ গরু ছিল। গো- খাদ্যের জোগান দিতে না পেরে ১৮ টি গরু বিক্রি করে দিয়েছেন। বাকি গরুগুলোও দিনেদিনে পর্যাপ্ত খাদ্যের অভাবে হাড্ডিসার হয়ে যাচ্ছে। গবাদিপশু নিয়ে প্রায় একই দুর্দশায় পড়েছেন ঘোগারকুটি গ্রামের খামারি মোজাম্মেল হক, আলী হোসেন, আশরাফুল আলম।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে খড় সংকটের কারণে অনেকেই গরু-মহিষকে কলা গাছ, কলা পাতা, বাঁশ পাতা, কচুরিপানা সহ বিভিন্ন গাছের ডাল পাতা খাওয়াচ্ছেন। অনেকেই আবার ক্ষেতের ধানগাছ কেটে খড়ের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছেন।

এমন পরিস্থিতিতে গো-খাদ্য সংকটের কারণে সৃষ্ট দুরাবস্থা কাটিয়ে উঠতে প্রণোদনা চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন খামারি সহ প্রান্তিক চাষিরা।

ক্ষতিগ্রস্তরা প্রনোদণা পাক আর না পাক তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার হুমকির সম্মুখীন হতে হয়েছে সাংবাদিকদের।

গো-খাদ্য সংকটের সবশেষ পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ে যান সৃষ্টি টিভি এবং দৈনিক জনকথা পত্রিকার ফুলবাড়ী উপজেলা প্রতিনিধি। এসময় প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা কৃষ্ণ মোহন হালদার ঐ সাংবাদিকদের সংবাদ প্রকাশ করতে বারবার নিষেধ করেন। এসময় তিনি কোন খামারি সংকটে পড়েছেন তা জানতে চাইলে সাংবাদিকদ্বয় খামারি ও বড়ভিটা ইউপি চেয়ারম্যান খয়বর আলীর প্রদত্ত বক্তব্য তুলে ধরেন। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিকদের ঐ ব্যক্তিকে তার কার্যালয়ে হাজির করতে বলেন এবং সাংবাদিকদের নিয়ে অশালীন কথা বার্তা বলতে থাকেন।

এক পর্যায়ে তিনি ওই দুই সাংবাদিককে তার কক্ষে আটকে রেখে উপসহকারী প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা গৌতমকে মুটোফোনে ডেকে আনেন। দু’জনে মিলে সাংবাদিকদের সাথে অসাধাচারণ করেন এবং সংবাদ প্রকাশিত হলে সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 dainikjonokotha.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com