বৃহস্পতিবার, ০৫ অগাস্ট ২০২১, ০৫:৫৯ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:

আর্থিক সহায়তা চাই না, শুধু একটি চাকরি চাই 

জুয়েল বাবু, রংপুর প্রতিনিধি
  • Update Time : রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২০

আমার স্বামীকে যাঁরা হত্যা করেছে তাদের বিচার চাই। আমি আর্থিক সহযোগিতা চাই না। শুধু একটা সরকারি চাকরি চাই। যাতে করে ছেলে-মেয়েকে ভালো করে মানুষ করতে পারি। ওদের বাবা নেই। এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নজিরবিহীন। স্বামীকে হারিয়ে দুই সন্তান নিয়ে আমি বড় আসহায় হয়ে পড়েছি। প্রধানমন্ত্রী যদি আমাকে একটি সরকারি চাকরির ব্যবস্হা করে দেন, তাহলে আমি দুই সন্তানকে মানুষ করতে পারব। এই কথাগুলো স্বামী হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে না পারা স্ত্রী জেসমিন আক্তার মুক্তার।

রোববার ( ৮ নভেম্বর) দুপুরে রংপুর প্রেসক্লাব চত্বরের সামনে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধন সমাবেশে সহিদুন্নবী জুয়েল হত্যার বিচার দাবি জানিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠন  বাংলার চোখ এই মানববন্ধন সমাবেশের আয়োজন করে। মানববন্ধন থেকে ফ্রান্সে বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ ( সা.) এর অবমাননা করে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের ত্রীব্র নিন্দা ও লালমনিরহাটের পাটগ্রাম বুড়িমারীতে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক লাইব্রেরিয়ান আবু ইউনুস মো. সহিদুন্নবী জুয়েলকে গুজব ছড়িয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার প্রতিবাদ জানানো হয়। একই সাথে জুয়েল হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতারসহ সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিও তুলে ধরেন মানববন্ধনে অংশ নেয়া বক্তারা।

সামাজিক সংগঠন বাংলার চোখ এর প্রতিষ্ঠিতা চেয়ারম্যান তানভীর হোসেন আশরাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন, নিহত জুয়েলের স্ত্রী জেসমিন আক্তার মুক্তা, রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সফিয়ার রহমান সফি, সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল, কারমাইকেল কলেজের সাবেক ভিপি   আলাউদ্দিন মিয়া, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মশিউর রহমান, শ্রমিক নেতা সিদ্দিক হোসেন, মহানগর ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেরিন উল মর্তুজা, মহানগর কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক রাতুজ্জামান রাতুল, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জাসদের কেন্দ্রীয় সদস্য শাহাবুল ইসলাম সাগর, রংপুর সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি জসিম আহম্মেদ রিজভী প্রমুখ।

মানববন্ধনে বাংলার চোখের রংপুর জেলা, মহানগর, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইউনিটের সদস্য, সংগঠক ও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সংহতি প্রকাশ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। উল্লেখ্য, নিহত যুবক সহিদুন্নবী জুয়েল রংপুর শহরের শালবন মিস্ত্রিপাড়া এলাকার আব্দুল ওয়াজেদ মিয়ার ছেলে।

গত ২৯ অক্টোবর বিকেলে সুলতান রুবায়াত সুমন নামে এক সঙ্গীসহ বুড়িমারী বেড়াতে যান তিনি। ওই দিন বুড়িমারী বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে কোরআন অবমাননার গুজব ছড়িয়ে সহিদুন্নবী জুয়েলকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 dainikjonokotha.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com