রবিবার, ২০ জুন ২০২১, ০৩:৪০ অপরাহ্ন

ফুলবাড়ীতে প্রাকৃতিক প্রতিকূলতায় পশুপালন

এম আর মাহফুজ, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
  • Update Time : সোমবার, ৯ নভেম্বর, ২০২০

জীবন-জীবিকার চাকা সচল রাখতে প্রতিনিয়তই প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার সাথে লড়াই করে টিকে থাকতে হচ্ছে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষকদের। প্রকৃতি যেন তার কড়াল গ্রাসে কৃষকের স্বপ্ন বিনাসের খেলায় মেতেছে। প্রকৃতির নিঠুর খেয়ালিপনায় বেশি মূল্য চুকাতে হচ্ছে গবাদিপশু পালনকারীদের। দফায় দফায় বন্যার ধাক্কা কাটিয়ে ওঠতে না ওঠতে ঈদের আগে দেখা দেয় লাম্পি স্কিন রোগের প্রাদুর্ভাব।যার প্রভাব পরে ঈদের পশুর হাটে। লোকসান মেনে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সংগ্রাম চালিয়ে যান কৃষকেরা। স্বপ্ন দেখে আমন কেটে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার। কথায় বলে ” কপালে নাই ঘি ঠকঠকালে হবে কি ” এই যেন অবস্থা কৃষকদের। প্রাকৃতিক বৈরীতায় দেখা দিয়েছে আমনের ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কা। দিনে দিনে তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে গো খাদ্যের সংকট। তার উপড় গত কয়েকদিন হতে গোদের উপড় বিষ ফোঁড়ার মতই দেখা দিয়েছে গবাদিপশুর খুরা রোগ। এ রোগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অনেক কৃষকের গবাদিপশু আক্রান্ত হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে কারো হালের বলদ, কারোবা দুধের গাভি, বাছুরসহ ছাগলও খুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। নানামুখী সংকটে গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকেরা। দিনে দিনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পরছে খুরা রোগ। ফলে দুশ্চিন্তায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন পশুপালনকারীরা।

কৃষকদের ঘুম হারাম হলেও ঘুম ভাঙ্গে নি উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্তা বাবুদের। গত প্রায় পনের দিন হতে খুরার প্রাদুর্ভাবে গবাদিপশু মারা গেলেও দেখা যায়নি প্রাণী সম্পদের কোন তৎপরতা এমনটাই অভিযোগ কৃষকদের।

উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের ধনিরাম গ্রামের কৃষক ওবাইদুল হক বলেন, তার ছয়টি গরুর মধ্যে তিনটি গরু খুরা আক্রান্ত একটি বাছুর গরু মারা গিয়েছে। তার মতে এলাটিতে প্রায় হাজার খানেক গবাদিপশু খুরা রোগে আক্রান্ত। চন্দ্রখানা গ্রামের বাদল জানান, তার দুটি গরু এবং তার ভাতিজা রশিদুলের চারটি গরু ও দুটি ছাগল খুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। চিকিৎসার জন্য প্রানীসম্পদ কর্মকর্তাকে বহুবার ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেন নি। বিনাচিকিৎসায় একটি ছাগল মারা গেছে। ছাগল মারা যাওয়ায় কান্নাকাটি করতে দেখা গেছে রশিদুলের স্ত্রীকে। একই গ্রামের রমানন্দ রায়ের দুটি হালের বলদ ও একটি বাছুর খুরা রোগে আক্রান্ত। খুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে ছাগলটি মারা যাওয়ায় এলাকাটির অনেকেই গবাদিপশু নিয়ে চরম আতঙ্কে আছেন।

খুরা রোগের কারণে উপজেলার প্রান্তিক কৃষকেরা চিন্তাগ্রস্ত হলেও ছুটি যাপনে গেছেন প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা। উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ কৃষ্ণ মোহন হালদারের সাথে দেখা করতে গেলে তিনি ছুটিতে থাকায় তার সাক্ষাৎ সম্ভব হয় নি। পরে মুটোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অফিসে এসে সাক্ষাতে কথা বলতে বলেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 dainikjonokotha.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com