সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ০৬:০১ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
পঞ্চগড় পৌরসভা (৬ষ্ট তলা) সুপার মার্কেটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন জোন ভিত্তিক লকডাউনে যাচ্ছে কুড়িগ্রাম লালমনিরহাটে ছাদ থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু কুড়িগ্রামে ১১’শ ভূমিহীন পরিবার পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নওগাঁয় সাংবাদিক আব্বাস আলীর উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন চাষিদের বিক্ষোভের মুখে হিমাগারের অতিরিক্ত ভাড়া প্রত্যাহার কাঁচিচরে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “বিবেক ২১”এর বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালন গোয়ালঘর থেকে কৃষকের মরদেহ উদ্ধার কুষ্টিয়ায় স্বামী-স্ত্রী ও ছেলেকে রাস্তায় গুলি করে হত্যা কুড়িগ্রামে মাসিক কল্যাণ সভায় টানা তৃতীয় বারের শ্রেষ্ঠ ওসি উলিপুর থানার ইমতিয়াজ কবীর

রংপুরে বধ্যভূমিতে খনন কাজের সময় মাটির নিচ থেকে বেরিয়ে এলো মানুষের হাড়গোড়

জুয়েল বাবু, রংপুর প্রতিনিধি
  • Update Time : সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ব্যবহৃত রংপুর টাউন হল টর্চার সেলের পাশের  বধ্যভূমি খনন কাজের সময় মাটির নিচ থেকে বেরিয়ে এলো মানুষের হাড়গোড় ও দাঁতের অংশ বিশেষ।

সোমবার ( ৩০ নভেম্বর) সকালে ওই বধ্যভূমিতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ কাজের জন্য শ্রমিকরা মাটি খোঁড়ার সময় এসব হাড়গোড় বের হয়ে আসে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে সাধারণ মানুষজন এক ঝলক দেখার জন্য ছুটে যান টাউন হল বধ্যভূমি চত্বরে। পরে প্রশাসনের কর্মকর্তারাও বধ্যভূমি এলাকা পরিদর্শন করেন।

এদিকে খনন কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, মাটিতে ভরাট হওয়া কুয়ার উপরিভাগ কেবল খোঁড়া হয়েছে। পুরো কুয়া খুঁড়লে মুক্তিযুদ্ধকালীন নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা যাওয়ামানুষের আরো হাড়গোড় পাওয়া যেতে পারে।

বধ্যভূমি পরিদর্শনে এসে একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মুল কমিটির রংপুর সভাপতি ডা.মফিজুল ইসলাম মান্টু বলেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মারক এই রংপুর টাউন হল বধ্যভূমি। পাকিস্তান হানাদার বাহিনী টাউন হলে টর্চার সেল করেছিল। মুক্তিকামী বাঙালি, মুক্তিযোদ্ধা ও নিরীহ মানুষদের ধরে এনে টর্চার সেলে নির্যাতন ও হত্যা করেছিল। মা বোনদের ইজ্জত লুটসহ তাদের হত্যা করে ফেলে দেয়া হয়েছিল টাউন হলের পাশের কুয়াতে। এই ইতিহাসের কথা এতোদিন আমরা সবাই বলছিলাম। হায়েনাদের হাতে মারা যাওয়া মানুষের আজ হাড়গোড় মিলেছে। আমরা মুক্তিযুদ্ধের মহান ইতিহাস সংরক্ষণ করে অমরগাথা ও স্মারক চিহৃ জীবন্ত রাখতে চাই।

খনন কাজের সময় সেখানে উপস্থিত স্হানীয় একটি পত্রিকার সাংবাদিক বলেন, আমার মত তরুণ যুবকরা মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি। কিন্তুু ইতিহাস থেকে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর নির্মমতা, হত্যাযজ্ঞ ও তান্ডবের কথা শুনেছি। টাউন হল টর্চার সেলে এনে মানুষদের হত্যা করার ইতিহাস শুনেছি। কিন্তুু সেই নির্মমতার শিকার হওয়া মানুষের হাড়গোড় ও দাঁতের অংশ বিশেষ স্বচক্ষে দেখতে পেলাম। ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখতে এসব হাড়গোড় সংরক্ষণ করা খুব জরুরি।

এদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড শাহাদাত হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেনসহ বিভিন্ন প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের চেতনার সংস্কৃতিকর্মী ও সংগঠকরা বধ্যভূমি পরিদর্শনে আসেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৬ নভেম্বর ওই স্থানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়। ঐতিহাসিক টাউন হল ও আশপাশের সৌন্দর্যবর্ধন বৃদ্ধিসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বধ্যভূমিটি সংরক্ষণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করছে রংপুর জেলা প্রশাসন। বধ্যভুমিতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ ও সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ আগামী বছরের জুনে শেষ হবে। এর নির্মাণ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ লাখ টাকা।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 dainikjonokotha.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com