রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:০৬ পূর্বাহ্ন

উলিপুরের ইউনিয়ন পরিষদ গুলোর বিদ্যুৎ বিল বকেয়া সাড়ে ৩ লাখ টাকা!

সুভাষ চন্দ্র, উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২০

কুড়িগ্রামের উলিপুরে ১টি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের কাছে কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৬’শ ৪৯ টাকার বকেয়া বিদ্যুৎ বিল রয়েছে। সঠিক সময়ে সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় মাঝেমাঝেই বিদ্যুৎ বিভাগ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় তৃণমূলের সেবা গ্রহণকারী অনেক মানুষ সরকারের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে । অভিযোগ রয়েছে, দফায় দফায় বিল পরিশোধের জন্য চিঠি দিলেও তা আমলে নিচ্ছে না অনেক ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি উলিপুর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) এস.এম নাসির উদ্দীন বিষয়টি নিশ্চত করেন।

বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় ইতোমধ্যে দুটি ইউনিয়ন পরিষদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি । আর এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে ইউনিয়ন পরিষদে আসা সেবা গ্রহীতারা। এদিকে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বলছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে বকেয়ার পাহাড় নিয়ে থাকা ইউনিয়ন পরিষদ গুলো তাদের বকেয়া পরিশোধ না করলে তাদেরও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।

স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একাধিক সূত্র জানায়, উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন পরিষদে ৩ লাখ ১০ হাজার ২৭৬ টাকা ও একটি পৌরসভায় ৪৫ হাজার ৩’শ ৭৩ টাকা বকেয়া বিদ্যুৎ বিল রয়েছে। এরমধ্যে ধামশ্রেনী ইউনিয়ন পরিষদের ৩১ মাসের ১ লাখ ৫৪৫, দুর্গাপুর ইউপিথর ৬ মাসের ১৬ হাজার ৯২, তবকপুর ইউপিথর ২২ মাসের ২০ হাজার ৯৭৪, দলদলিয়া ইউপিথর ৯ মাসের ৮ হাজার ৯৫৮, হাতিয়া ইউপিথর ৮ মাসের ২০ হাজার ৮০৫, ধরনীবাড়ী ইউপিথর ১৩ মাসের ৩৪ হাজার ৩৬৯, বুড়াবুড়ি ইউপিথর ১২ মাসের ৩৪ হাজার ৪৮৩, থেতরাই ইউপিথর ২০ মাসের ৫৮ হাজার ৫৭৬, বজরা ইউপিথ ১৮ মাসের ১৫ হাজার ৪৭৪ ও উলিপুর পৌরসভার ১৬ মাসের ৪৫ হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। এসব ইউনিয়ন ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে বার বার বকেয়া পরিশোধের জন্য তাগাদা পত্র দিলেও তা আমলে নেয়নি তারা। কার্যত সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে যেন অসহায় হয়ে পড়েছে । ইতোমধ্যে থেতরাই ও ধরণীবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ।

এদিকে সংযোগ বিছিন্ন করায়, নাগরিকরা দৈনন দিন সরকারের দেয়া সেবা থেকে বন্চিত হওয়ায় সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

অন্যদিকে অনেকেই বলছে, যেখানে সাধারণ মানুষ দু-তিন মাসের বিল বাকী রাখলে জরিমানাসহ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। সেখানে কিভাবে মাসের পর মাস বিদ্যুৎ বিল না দিয়েও সংযোগ সচল থাকে।

ধরণী বাড়ি ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা এক নাগরিক জানান, কয়েকদিন ধরে জন্ম নিবন্ধনসহ বিভিন্ন ধরনের সেবা থেকে অনেকেই বন্চিত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় তারা জন্মসনদ দিতে পারছে না। এ এলাকায় নাগরিক সেবা স্থবির হয়ে পড়েছে। তবে ঐ ইউনিয়নে পুনঃসংযোগ দেয়া হয়েছে।

থেতরাই ইউনিয়নের ডিজিটাল সেন্টারের পরিচালক আতিকুর রহমান জানান, বকেয়া পরিশোধ না করায় সংযোগ কেটে দিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ। ফলে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উলিপুর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) এস এম নাসির উদ্দীন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে আয়ের একটা উৎস আছে, কিন্ত বার বার চেয়ারম্যানদের চিঠি দেয়া হলেও তারা বিল পরিশোধ করেননা। আগামী ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ না করলে সব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 dainikjonokotha.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com