সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ০৬:২২ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
পঞ্চগড় পৌরসভা (৬ষ্ট তলা) সুপার মার্কেটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন জোন ভিত্তিক লকডাউনে যাচ্ছে কুড়িগ্রাম লালমনিরহাটে ছাদ থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু কুড়িগ্রামে ১১’শ ভূমিহীন পরিবার পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নওগাঁয় সাংবাদিক আব্বাস আলীর উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন চাষিদের বিক্ষোভের মুখে হিমাগারের অতিরিক্ত ভাড়া প্রত্যাহার কাঁচিচরে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “বিবেক ২১”এর বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালন গোয়ালঘর থেকে কৃষকের মরদেহ উদ্ধার কুষ্টিয়ায় স্বামী-স্ত্রী ও ছেলেকে রাস্তায় গুলি করে হত্যা কুড়িগ্রামে মাসিক কল্যাণ সভায় টানা তৃতীয় বারের শ্রেষ্ঠ ওসি উলিপুর থানার ইমতিয়াজ কবীর

রাতে শীতের দাপট, দিনে সূর্যালোকে কিছুটা স্বস্তি

কল্লোল রায়:
  • Update Time : সোমবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২০

‘গরীব মানুষ, শীতের কাপড় কটাই (কোথায়) পাই? ছাওয়ার ঘরে রোজগার নাই, কেমন করি কাপড় কিনি দেয়।’ কথাগুলো বলার সময় ঠান্ডায় কাঁপছিলেন আছিয়া বেওয়া। কথা বলার সময় তার কন্ঠস্বরও কেঁপে উঠছিল। শরীরে শীতের পোশাক না থাকায় বেশ কষ্ট পাচ্ছিলেন এই প্রবীণ নারী। নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নের দামাল গ্রামের বাসিন্দা এই নারীর মতো জেলার চর ও গ্রামাঞ্চলের অনেক প্রবীন ও শিশুরা চলমান শীতে নিদারুন কষ্ট ভোগ করছেন। শীত বস্ত্রের অভাব তাদের কষ্টের মাত্রা বাড়িয়েছে বহুগুণ।

গতকাল জেলার রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার ( কৃষি ও সিনপটিক) জানায়, রবিবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা দেশের সর্বনিম্ন।
উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রামে চলছে শীতের দাপট। গত কয়েকদিন ধরে ক্রমেই এ জেলার তাপমাত্রা হ্রাস পাচ্ছে। রবিবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল এ জেলায়। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনে শীতের তীব্রতায় বিপাকে পড়েছেন জেলার ২০ লক্ষাধিক মানুষ। বিশেষ করে নদী বিধৌত এ জেলায় চরাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ চরম কষ্টে দিনানিপাত করছেন। রাতে শীতের দাপুটে উপস্থিতিতে মানুষের অবস্থা জবুথুবু হয়ে পড়লেও দিনের হালকা সূর্যালোকে কিছুটা স্বস্তি মিলছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, শীতের আগমনে তাপমাত্রা কমতে থাকায় গত কয়েকদিনে হাসপাতালে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। রোগী বাড়ছে জেলার জেনারেল হাসপাতালেও।
শীত বস্ত্রের সংকটে কুয়াশা আর হিম বাতাসে বিপাকে পড়েছেন চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। বিশেষ করে দিনমজুর শ্রেণির মানুষজন ঠান্ডায় কাজে বের হতে না পারায় শ্রম বিক্রি করতে পারছেন না। এতে করে অনেকে পরিবারের ভরণ পোষণ নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছেন। তাদের দাবি শুধু কম্বল নয়, পাশাপাশি শীত বস্ত্র হিসেবে সোয়েটার কিংবা জ্যাকেট দেওয়াটা জরুরী।
দুধকুমার নদ অববাহিকার বাসিন্দা মামুনুর রশিদ জানান, তাদের গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ দিন মজুর। ঠান্ডায় কাজে বের হওয়া তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় দিনমজুর শ্রেণির এসব মানুষের শীতবস্ত্র হিসেবে সোয়েটার কিংবা জ্যাকেট ও ট্রাউজার দেওয়া প্রয়োজন।
মামুন বলেন, ‘কম্বল নিয়ে তো মানুষ কাজে বের হতে পারে না। শীতের পোশাক দিলে সেগুলো পড়ে অন্তত কাজ করতে পারে, দিনটা তাদের উপার্জনহীন হয় না।’

জেলা প্রশাস‌নের দু‌র্যোগ ব‌্যবস্থাপনা শাখা জানায়, জেলার ৯ উপ‌জেলায় ৩৫ হাজার কম্বল এবং ৯ হাজার প‌্যাকেট শুক‌নো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হ‌য়ে‌ছে, যা বিতরণ চল‌ছে। এছাড়াও শীতবস্ত্র ক্রয়ের জন‌্য উপ‌জেলা প্রতি ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হ‌য়ে‌ছে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলো ইতোমধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু করেছে।
জেলার রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ( কৃষি ও সিনপটিক) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, জেলায় মাঝারি ধরণের শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আগামী ৭২ ঘন্টা এই অবস্থা বিরাজ করতে পারে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 dainikjonokotha.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com