সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
ফুলবাড়ীতে কঠোর লকডাউন কার্যকরে কঠোর প্রশাসন ফুলবাড়ীতে তরুণদের উদ্যোগে বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা চালু কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ৫শ দুস্থ্য পরিবার পেল ঈদ উপহার লালমনিরহাট পৌরবাসীকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, জনতার মেয়র রেজাউল করিম স্বপন ফুলবাড়ীতে কেটে নেয়া ধান গাছ থেকে ফের ধান উৎপাদন পঞ্চগড়ে নদী ভাঙ্গন রক্ষার দাবিতে স্থানীয়দের মানববন্ধন  জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা; সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা ফুলবাড়ীতে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ সচ্ছলরা পেয়েছেন গৃহহীনদের ঘর, প্রতিবাদে কুড়িগ্রামে মানববন্ধন উলিপুরে ১০ ছাত্রলীগ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদনে উচ্ছ্বসিত কুড়িগ্রামবাসী

কল্লোল রায়:
  • Update Time : সোমবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২০

উত্তরের সীমান্তবর্তী দারিদ্রপীড়িত জেলা কুড়িগ্রামে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের খসড়া প্রস্তাব মন্ত্রীসভায় অনুমোদন হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশের পাশাপাশি সরকার প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে কুড়িগ্রাম জেলার সর্বস্তরের জনগণ। সোমবার (২১ ডিসেম্বর) মন্ত্রীসভার ভার্চুয়াল সভায় ‘ কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০২০’ এর খসড়া অনুমোদন হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় জেলা জুড়ে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পেশাজীবীসহ বিশিষ্টজনরা সরকারের এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করছেন। সামাজিক মাধ্যমে চলছে সরকার প্রধানকে নিয়ে বন্দনা।

কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সালমান দিদার জানান, ‘আমরা সত্যি উচ্ছ্বসিত। এটা জেলার জন্য অনন্য পাওয়া। এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন হলে শুধু শিক্ষার ক্ষেত্রে নয়, জেলায় কৃষির আধুনিকায়ন, গবেষণা ও উন্নয়ণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই বিশ্ববিদ্যালয় ভূমিকা রাখবে। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি বরাবরের মতো আবারও কুড়িগ্রামের মানুষের প্রতি তার আন্তরিকতার বহি:প্রকাশ ঘটালেন।’
ওই কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, ‘ এটা জেলাবাসীর বহুল প্রতিক্ষিত একটি পাওয়া। দেরিতে হলেও এই চাওয়ার বাস্তায়ন হচ্ছে এটা জেনে আমিসহ জেলাবাসী সত্যি শিহরিত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আমরা কৃতজ্ঞ। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি পড়ার সুযোগ না পেলেও আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম পড়তে পারবে এটা ভেবেই ভালো লাগছে। কৃষি প্রধান কৃড়িগ্রামে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত যুগোপযোগী ও ফলপ্রসু হবে। এর ফলে এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের বিকাশসহ এলাকার কৃষির উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও সম্প্রসারণ ঘটবে।’
শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবিন্দ সরকারের এই সিন্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা বলছেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় এ জেলার মানুষের প্রাণের দাবি। আওয়ামী লীগ সরকার শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, এ জেলার মানুষের স্বপ্ন পুরণ করতে যাচ্ছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত জেলার মানুষের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের সাথে কৃষির আধুনিকায়ন ও দারিদ্র বিমোচনে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক সূচকে কুড়িগ্রাম জেলার গুরুত্ব বেড়ে যাবে।

সামাজিক সংগঠন গ্রিন ভয়েজের সাধারণ সম্পাদক সুজন মোহন্ত বলেন,‘ কৃষি পৃথিবীর আদিম পেশা। কুড়িগ্রামের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করেন। শিক্ষার উন্নয়নসহ জেলার কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ণে একটি বিশ্ববিদ্যালয় চমৎকার অনুঘটকের কাজ করতে পারে। ভাবতেই ভালো লাগছে যে এখন আমার জেলার কৃষি ও কৃষকদের নিয়ে গবেষণা হতে পারে। আমরা সত্যি আনন্দিত। ’
জেলা শহরের ব্যবসায়ী ফরহাদ হোসেইন জানান, এটা ভালো উদ্যোগ,আমরা আনন্দিত।
ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি, কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক দুলাল বোস বলেন,‘ আমাদের দাবি ছিল একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। তবে বিশেষায়িত বিশ্বদ্যিালয় হলেও প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ যে তিনি জেলাবাসীর বহুল প্রতিক্ষিত একটি বাসনা পূরণ করতে যাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় শুধু লেখাপড়ার স্থান নয়, সেখানে গবেষণার পাশাপাশি নতুন কিছু উদ্ভাবনও হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন হলে জেলায় বিভিন্ন বাণিজ্যেরও প্রসার ঘটবে। এতে জেলার অনেক মানুষ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে। আমরা চাই দ্রুত সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিঘ্রই এই বিশ্ববিদ্যালয় তার শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করুক এবং এতে যেন সব ধরণের বিষয় অধ্যয়নের সুযোগ রাখা হয়।’
রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও সংগঠক নাহিদ হাসান বলেন, ‘কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা নেই। এটা আমাদের পরম পাওয়া। এই বিশ্ববিদ্যালয় তার কার্যক্রম চালু করলে জেলার সার্বিক চিত্রই পাল্টে যাবে। কৃষির আধুনিকায়নের পাশাপাশি জেলার বিশাল চরাঞ্চলে কৃষি বিপ্লব ঘটার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।’
শিক্ষাবিদ ও গবেষক আব্রাহাম লিংকন বলেন, ‘এই অনুমোদনের ফলে প্রমাণিত হলো যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কুড়িগ্রামকে ঘিরে যে চিন্তা করেন তার প্রতিফলন হলো এবং তিনি যে কথা দেন তা তিনি বাস্তবায়ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় দিয়ে যখন উচ্চ শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হবে তখন অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা আমাদের জেলা আরও এগিয়ে যাবে।’

প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়টি কৃষি ভিত্তিক হলেও তাতে যেন সাধারণ বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়, এমন প্রস্তাবনা দিয়ে এই শিক্ষাবিদ বলেন, ‘ এতে করে আমাদের পাশ্ববর্তী জেলা ও সীমান্তবর্তী রাষ্ট্রগুলো থেকে অনেক শিক্ষার্থী এখানে শিক্ষা ও গবেষণায় আগ্রহী হবে। ফলে এটি একটি সার্বজনীন প্রতিষ্ঠানে রূপ নেবে।’ তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা নির্ধারণের ক্ষেত্রে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো রয়েছে এমন স্থান নির্বাচন করার পরামর্শ দেন তিনি।
জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের খসড়া প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু।
তিনি বলেন, ‘গত ৪ মে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে কুড়িগ্রাম জেলার ভিডিও কনফারেন্সে আমি তাকে সবিনয়ে জানাই যে কুড়িগ্রামকে সবাই পশ্চাৎপদ এলাকা হিসেবে জানে। এখানকার মানুষ না চাইতেই তিনি জেলাবাসীর জন্য অনেককিছু করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি কুড়িগ্রামকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উপহার দিলেন। মুজিব বর্ষে এ এক অনন্য পাওয়া।’

এই আওয়ামী লীগ নেতা আরও বলেন, ‘ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুড়িগ্রামকে অনেক কিছু দিয়েছেন। আমরা তাঁর কাছে চির কৃতজ্ঞ। আমি এখন জেলাবাসিকে আশ্বস্ত করছি যে, সামনের দিন প্রধানমন্ত্রী আমাদের একটি মেডিকেল কলেজের পাশাপাশি তার প্রতিশ্রুত অর্থনৈতিক অঞ্চল দেবেন। আমি নিজেও প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই দাবি জানাবো। আমরা জেলাবাসি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করি, আল্লাহ তাঁকে যেন সুস্থ্যতার সাথে দেশ পরিচালনার সামর্থ দেন।’

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 dainikjonokotha.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com