সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ০১:০২ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
ফুলবাড়ীতে কঠোর লকডাউন কার্যকরে কঠোর প্রশাসন ফুলবাড়ীতে তরুণদের উদ্যোগে বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা চালু কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ৫শ দুস্থ্য পরিবার পেল ঈদ উপহার লালমনিরহাট পৌরবাসীকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, জনতার মেয়র রেজাউল করিম স্বপন ফুলবাড়ীতে কেটে নেয়া ধান গাছ থেকে ফের ধান উৎপাদন পঞ্চগড়ে নদী ভাঙ্গন রক্ষার দাবিতে স্থানীয়দের মানববন্ধন  জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা; সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা ফুলবাড়ীতে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ সচ্ছলরা পেয়েছেন গৃহহীনদের ঘর, প্রতিবাদে কুড়িগ্রামে মানববন্ধন উলিপুরে ১০ ছাত্রলীগ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার

পুলিশের নির্যাতনে প্রতিবন্ধী নিহতের ঘটনায়, মহাসড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন 

রংপুর প্রতিনিধি
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২০

পুলিশের পিটুনিতে রংপুর নগরীর কোর্টপাড়া এলাকার প্রতিবন্ধী রিকশাচালক নাজমুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে নিহত নাজমুল ইসলামের স্ত্রী শ্যামলী বেগম বাদী হয়ে পুলিশ কনস্টেবল হাসান আলী ও তার স্ত্রী সাথী বেগমকে আসামি করে এ মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর) বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্কের মোড় এলাকায় নাজমুল হত্যার বিচারের দাবিতে ঢাকা-রংপুর -কুড়িগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন এলাকাবাসী। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

নিহত নাজমুলের স্ত্রী শ্যামলী বেগম অভিযোগ করে বলেন, রংপুর পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল হাসান আলী ও তার স্ত্রী সাথী বেগম আমার স্বামী নাজমুল কে পিটিয়ে হত্যা করেছেন। অবিলম্বে তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিও করেন তিনি। এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে রংপুর নগরীর শাপলা চত্বর এলাকায় রিকশাচালক শ্রমিক লীগ ও দুপুরে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বাংলাদেশ ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন সমাবেশ করেন।

গতকাল বুধবার দুপুরে কনস্টেবল হাসানের কোর্টপাড়ার ভাড়াবাসা থেকে নাজমুলের ঝুলন্ত  মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পুলিশ কনস্টেবল হাসান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করে এলাকাবাসী। এ ঘটনায় নাজমুলের স্ত্রী শ্যামলী বেগম বাদি হয়ে বুধবার রাতেই তাজহাট থানায় পুলিশ কনস্টেবল হাসান আলী ও তার স্ত্রী সাথী হওয়া আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনার দিন দুপুরে তাদের আটক করা হলে মামলা দায়েরের পর তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়।

এ বিষয়ে তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) আখতারুজ্জামান বলেন, হত্যা কাণ্ডের পুলিশ কনস্টেবল হাসান ও তার স্ত্রী সাথী বেগমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ দুপুরে আসামিদের আদালতে তোলা হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, লালমনিরহাটের মুস্তকি এলাকার শারীরিক প্রতিবন্ধী নাজমুল ইসলাম আশরতপুর ঈদগাঁপাড়ায়  বাসাভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন। তাট পায়ে সমস্যা থাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা ভাড়ায় চালাতেন। ওই রিকশাটি ছিল পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল হাসান আলীর। হাসান আলীর গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধায়। তিনি আশরতপুর কোর্টপাড়ায় বাসাভাড়া নিয়ে পরিবারসহ বসবাস করেন। গত মঙ্গলবার রাতে ওই রিকশা নিয়ে হাসান আলীর সঙ্গে নাজমুলের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে তাকে বেধড়ক মারপিট করেন হাসান আলী। মারধরের এক পর্যায়ে নাজমুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাকে কোর্টপাড়ার বাড়িতে নিয়ে যায় হাসান। বুধবার দুপুরে ওই বাড়িতে নাজমুলের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন এলাকাবাসী। খবর পেয়ে তাজহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে এলাকাবাসী তাদেরকেও অবরুদ্ধ করে রাখে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, রিকশাচালক নাজমুলকে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালিয় দিতে চেয়েছিলেন পুলিশ কনস্টেবল হাসান আলী।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 dainikjonokotha.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com