রবিবার, ২০ জুন ২০২১, ০৪:০৯ অপরাহ্ন

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা নির্ধারণ নিয়ে সরগরম ফেসবুক

কল্লোল রায়:
  • Update Time : শুক্রবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২০

কুড়িগ্রামে তথা উত্তরাঞ্চলে কৃষির ব্যপক সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত সোমবার (২১ ডিসেম্বর) মন্ত্রীসভার ভার্চুয়াল সভায় ‘ কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০২০’ এর খসড়া অনুমোদন হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় জেলা জুড়ে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পেশাজীবীসহ বিশিষ্টজনরা সরকারের এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করছেন। সামাজিক মাধ্যমে চলছে সরকার প্রধানকে নিয়ে বন্দনা। এর পাশাপাশি স্থান নির্ধারণ নিয়ে নানান প্রস্তাবনা ও যুক্তি তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করছেন কুড়িগ্রামবাসী।

সমাজকর্মী তাজুল ইসলাম তাজ তার নিজস্ব ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, ‘পিছিয়ে পড়া হতদরিদ্র কুড়িগ্রাম জেলা কে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় পাচ্ছে কুড়িগ্রাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত স্থাপনার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হয়নি মন্ত্রালয়। আমি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে একটা দাবি উপস্থাপন করতে চাচ্ছি তা হল বিশ্ববিদ্যালয়টি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার শহরের নিকটবর্তী ধরলা ব্রিজ সংলগ্ন পূর্ব পাশে বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপনের জন্য জোরালো দাবি জানাচ্ছি।’ এছাড়াও তিনি তার প্রস্তাবনার পক্ষে নানান যুক্তি তুলে ধরেন।

এব্যাপারে সাংবাদিক ও সংগঠক জাহানুর রহমান খোকন বলেন, ‘কৃষিনির্ভর জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য কৃষিভিত্তিক চিন্তা করে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুমতি প্রদান করায় কুড়িগ্রামবাসীর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই। সেই সাথে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্বচন নিয়ে যাতে নোংরা রাজনীতি না হয় সেদিকে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছি। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কুড়িগ্রাম জেলার যে কোন জায়গায় হলেই কুড়িগ্রামের কৃষিনির্ভর মানুষের ভাগ্যে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগবে সে বিষয়ে সন্দেহ নাই তবুও গুরুত্ব বিবেচনা করে কুড়িগ্রাম জেলার প্রাণকেন্দ্রে স্থাপন করা হলে সকলের জন্য সমান সুবিধা হবে বলে মনে করি।’

৯ টি উপজেলা নিয়ে গঠিত কুড়িগ্রাম জেলায় তিনটি স্থানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের ব্যাপারে আলোচনা উঠেছে। একটি রাজারহাট উপজেলার টগরাই হাট এলাকায় আর একটি কুড়িগ্রাম সদরের কেতার মোড় এলাকায় এবং অন্যটি কুড়িগ্রাম সদরের ধরলা নদীর পাড়ে।

সাংবাদিক নাজমুল হোসেন তার ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন ‘কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সম্ভাব্য জায়গা
১.কেতার মোড় হলে ঢাকার সাথে প্রায় ১শ কিঃমিঃ পথ কমে যাবে+ জেলার ৫ উপজেলার সুবিধা
২. টগরাইহাট হলে ঢাকার সাথে পথ কমবে না+ জেলার ২টি উপজেলার সুবিধা হবে।’

অন্যদিকে এসব প্রস্তাবনার বিপরীতে সমালোচনাও কম হচ্ছেনা। সামাজিক সংগঠক মাসুদ রানা প্রামাণিক একটি পোস্টের মন্তব্যে লিখেছেন, ‘আমার মনে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকা লাগায় ঠেলে সব স্থানে নিয়ে যেতে হবে!!! যা শুরু হইছে’

তবে,সব আলোচনা সামালোচনার উর্ধ্বে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই মহৎ উদ্যোগের দ্রুত বাস্তবায়ন চায় কুড়িগ্রামবাসী।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 dainikjonokotha.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com