রবিবার, ২০ জুন ২০২১, ০৩:১৪ অপরাহ্ন

জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতির অভিযোগে গ্রাম পুলিশ বরখাস্ত ,দায়মুক্ত বাছাই কমিটি!

জনকথা ডেস্ক :
  • Update Time : বুধবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২১

ন্যাশনাল আইডেন্টিটি ডকুমেন্ট (এনআইডি) বা জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি করে ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম পুলিশ (মহল্লাদার) পদে অপ্রাপ্তবয়স্ক এক কিশোরকে নিয়োগ দেওয়ায় ওই নিয়োগ বাতিল করেছে উপজেলা প্রশাসন। কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার রাজারহাট ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুর অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের সুপারিশের ভিত্তিতে গ্রাম পুলিশ ( মহল্লাদার) পদ থেকে অভিযুক্ত কিশোর গৌতম রায়কে বরখাস্ত করে রাজারহাট উপজেলা প্রশাসন। গত ১৭ জানুয়ারি রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরে তাসনিম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আদেশটি উপজেলা প্রশাসনের ওয়েব সাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। তবে ওই আদেশে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জড়িত বাছাই কমিটিকে কোনও দায় দেওয়া হয়নি।

রাজারহাট ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডে গ্রাম পুলিশ (মহল্লাদার) পদ শূন্য হলে ২০২০ সালের জুলাই মাসে ওই পদে  গৌতম রায় নামে এক কিশোরকে নিয়োগ দেয় বাছাই কমিটি। কিন্তু,ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবু অভিযোগ করেন, গৌতম রায় নামে ওই এলাকায় কোনও ব্যক্তি নেই । অভিযোগে তিনি জানান, নিয়োগ পাওয়া গৌতম রায় মূলত ওই ওয়ার্ডের নির্মল কুমার রায়ের ছেলে নিপ্পন কুমার রায় (১৭)। নিপ্পন কুমারের ১৮ বছর বয়স পূর্ণ না হওয়ায় চেয়ারম্যান তাকে নাম ও জন্ম তারিখ পরিবর্তন করে অষ্টম শ্রেণি পাসের সনদ এবং ভুয়া এনআইডি কার্ড তৈরি করে আবেদন করার পরামর্শ দেন। সে অনুযায়ী নিপ্পন কুমারের নাম পরিবর্তন করে গৌতম রায় এবং জন্ম তারিখ পরিবর্তন করে ১২ ডিসেম্বর ১৯৯৬ দেখিয়ে আবেদন করে। এ আবেদন পাওয়ার পর তাকে নিয়োগ দেয় কমিটি। যদিও এসএসসি পাসের সনদ অনুযায়ী তার নাম নিপ্পন কুমার রায় এবং জন্ম তারিখ ১০ সেপ্টেম্বর ২০০৩ সাল।

উপজেলা প্রশাসনের ওয়েব সাইটে প্রকাশিত আদেশে বলা হয়েছে, গৌতম রায়ের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী ( শৃংখলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩ (খ) ও (ঘ) ধারায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে সরকারি কর্মচারী ( শৃংখলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৪ (৩) (ঘ) ধারায় চাকরি থেকে কেন বরখাস্ত করা হবে না ৭ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত কিশোর গৌতম রায় কারণ দর্শানোর নোটিশের লিখিত কোনও জবাব না দেওয়ায় সরকারি কর্মচারী ( শৃংখলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৪ (৩) (ঘ) ধারায় তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হলো।
অবিলম্বে এই আদেশ কার্যকর হবে বলেও অফিস আদেশে বলা হয়েছে।

তবে জালিয়াতির মাধ্যমে গ্রাম পুলিশ পদে নিয়োগ পাওয়া কিশোরকে বরখাস্ত করা হলেও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জড়িত বাছাই কমিটির সদস্যদের ব্যাপারে অফিস আদেশে কোনও নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তাদের দায় রয়েছে কিনা, সে ব্যাপারেও কোনও প্রশ্ন তোলা হয়নি।
স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) গ্রাম পুলিশ বাহিনী গঠন, প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও চাকরির শর্তাবলী সম্পর্কিত বিধিমালা ( সংশোধিত ২০১৭) অনুযায়ী গ্রাম পুলিশ নিয়োগে বাছাই কমিটির সভাপতি হবেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। এছাড়াও ওই কমিটিতে উপজেলা প্রকৌশলী, সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা (সদস্য-সচিব) থাকবেন।

নিয়োগ প্রক্রিয়ার মোটা অঙ্কের টাকার লেনদেনের অভিযোগ উঠলেও ইউপি চেয়ারম্যানসহ বাছাই কমিটিতে থাকা কাউকেই দায়ী করা হয়নি।

ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জড়িত ইউপি চেয়ারম্যানসহ সকলের শাস্তি দাবি করেছেন অভিযোগকারী ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবু। তিনি বলেন, ‘এই নিয়োগে মোটা অঙ্কের টাকার লেনদেন হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান ও তৎকালীন ইউএনও মিলে জালিয়াতির মাধ্যমে এই নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন। শুধু নিয়োগ বাতিল করলেই ন্যায় বিচার হয় না, অবৈধ এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।’

নিজের নাম পরিবর্তন করে টাকার বিনিময়ে গৌতম কুমার নামে নিয়োগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বরখাস্ত হওয়া গ্রাম পুলিশ নিপ্পন কুমার রায়। তিনি বলেন, ‘চেয়ারম্যান এনামুল হকের পরামর্শে নাম পরিবর্তন করেছি। এখন এটাই সমস্যা হয়েছে। চেয়ারম্যান আর মেম্বারের দ্বন্দ্বে এখন আমাদের সমস্যা হচ্ছে।’ নিজেদের দরিদ্রতা ও অক্ষমতার কারণে মৃত দাদার পদে নিয়োগ নিয়েছিলেন বলেও জানান এই কিশোর।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির দায় বাছাই কমিটি এড়াতে পারে কিনা, তা জানতে ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হককে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে জানতে বর্তমান ইউএনও নূরে তাসনিমের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনিও ফোন রিসিভ করেননি। কিছুক্ষণ পরে তার সাথে আবারও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘পুরো বিষয়টি আমার খোঁজ নিয়ে জানতে হবে। তবে নিয়োগ জালিয়াতিতে কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 dainikjonokotha.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com