বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১, ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন

কুড়িগ্রামে দুইদিনে অপচয় ৩৬ ডোজ টিকা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
  • Update Time : সোমবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে ভ্যাকসিন বা টিকা নেওয়ার প্রথম দুই দিনে কুড়িগ্রামে ১৩ টি ভায়ালের ৩৬ ডোজ টিকা অপচয় হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দিন ৭ টি ভায়ালে ১৮ ডোজ এবং দ্বিতীয় দিন ৬টি ভায়ালে ১৮ ডোজ টিকার অপচয় হয়। এক ভায়ালে ১০ জন করে টিকা নেওয়ার কথা থাকলেও নিবন্ধিত ( রেজিস্ট্রেশন করা) ব্যক্তিরা উপস্থিত না হওয়ায় অসম্পূর্ণ ওই ভায়ালগুলোর টিকার ডোজ নষ্ট হয়। গত দুই দিনে জেলার ৯ উপজেলার ৯ বুথে মোট ৭০৪ জন করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী এই ভ্যাকসিন নিয়েছেন। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ ভ্যাকসিন নিয়েছেন সদর উপজেলার কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল বুথে ২০২ জন।

সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান এসব তথ্য জানিয়েছেন।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলা সদরের জেনারেল হাসপাতালসহ জেলার ৯ উপজেলায় নিবন্ধনধারীদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, প্রথমদিন কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে টিকা নেন ৬৫ জন। গত দুই দিনে এই বুথে টিকা নিয়েছেন মোট ২০২ জন। এরপরই দ্বিতীয় সর্বাধিক সংখ্যাক মানুষ টিকা নিয়েছে রাজারহাট উপজেলায়, ১০৮ জন। এছাড়াও রাজীবপুরে ৩৬ জন, রৌমারী উপজেলায় ৫৫ জন, উলিপুরে ৭০ জন, নাগেশ^রীতে ৭০ জন, ভূরুঙ্গামারীতে ৫৪ জন, ফুলবাড়ীতে ৬৩ জন এবং চিলমারীতে ৪৬ জন। গত দুই দিনে জেলায় মোট ভ্যাকসিন গ্রহীতার সংখ্যা ৭০৪। এদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৫৭৭ জন এবং নারীর সংখ্যা ১২৭ জন। তবে গত দুই দিনে ভ্যাকসিন গ্রহণের জন্য জেলায় ৪ হাজারেরও বেশি নারী-পুরুষ রেজিস্ট্রেশন করেছেন বলে সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নজরুল ইসলাম জানান, সোমবার ( ৮ ফেব্রæয়ারি) দিনের শেষ ভায়ালটি খোলার পর ৭ জন টিকা নিয়েছেন। রেজিস্ট্রেশন করার পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বুথে না আসায় অবশিষ্ট তিন ডোজ টিকা অপচয় হয়েছে।

ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ এটা হবে, স্বাভাবিক। দশ ভাগ টিকা অপচয় হতে পারে। তবে ভ্যাকসিন গ্রহীতাদের সংখ্যা বাড়লে এই অপচয়ের মাত্রা আরও কমে যাবে।’ রেজিস্ট্রেশন করা ব্যক্তিদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এসএমএস’র পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফোন করেও বুথে আসার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে বলে জানান এই চিকিৎসা কর্মকর্তা।

সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান জানান, একটি ভায়ালে ১০ ডোজ টিকা থাকে। দিন শেষে যে ভায়ালটি উন্মুক্ত করা হয় সেটার ১০ ডোজ পূর্ণ করা না গেলে অবশিষ্ট ডোজ টিকা আর সংরক্ষণ করা যায় না। ফলে অবশিষ্ট ডোজ অপচয় হয়।

ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ উচ্চ মূল্যে কেনা এসব টিকার ডোজ যাতে কোনও ভাবে নষ্ট না হয় আমরা সে ব্যাপারে সচেতন থাকলেও রেজিস্ট্রেশন করা ব্যক্তিরা বুথে না আসায় কিছু ডোজ টিকা অপচয় হচ্ছে। তবে সেটা যাতে ন্যুনতম পরিমাণ হয় সেদিকে আমরা খেয়াল রাখছি।’

‘ সংশ্লিষ্ট দিনে নিবন্ধনধারী ও এসএমএস প্রাপ্ত যে ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময়ে বুথে আসছেন না আমরা তাদের ফোন দিচ্ছি। কিন্তু দেখা যাচ্ছে অনেকেরই ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তখন আমাদের আর করণীয় থাকছে না।’ যোগ করেন সিভিল সার্জন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জনগণের টাকায় সরকারি ভাবে ক্রয় করা উচ্চমূল্যের এসব ভ্যাকসিনের অপচয় রোধে রেজিস্ট্রেশন করা ব্যক্তিদের টিকা বুথে উপস্থিত হওয়া নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিকল্প করণীয় নির্ধারণ করা জরুরী।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 dainikjonokotha.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com