সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
পঞ্চগড় পৌরসভা (৬ষ্ট তলা) সুপার মার্কেটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন জোন ভিত্তিক লকডাউনে যাচ্ছে কুড়িগ্রাম লালমনিরহাটে ছাদ থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু কুড়িগ্রামে ১১’শ ভূমিহীন পরিবার পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নওগাঁয় সাংবাদিক আব্বাস আলীর উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন চাষিদের বিক্ষোভের মুখে হিমাগারের অতিরিক্ত ভাড়া প্রত্যাহার কাঁচিচরে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “বিবেক ২১”এর বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালন গোয়ালঘর থেকে কৃষকের মরদেহ উদ্ধার কুষ্টিয়ায় স্বামী-স্ত্রী ও ছেলেকে রাস্তায় গুলি করে হত্যা কুড়িগ্রামে মাসিক কল্যাণ সভায় টানা তৃতীয় বারের শ্রেষ্ঠ ওসি উলিপুর থানার ইমতিয়াজ কবীর

মহাসড়‌কে ঝড়‌লো ১১ প্রাণ

জনকথা ডেস্ক :
  • Update Time : শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

সিলেটের রশিদপুরে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে লন্ডন এক্সপ্রেস ও এনা পরিবহনের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত সাত জন নিহত হয়েছেন। এবং বগুড়ায় বাসের ধাক্কায় সিএনজি অটোরিকশার চালকসহ চার জন নিহত হয়েছেন।এই ঘটনায় আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ । সিলেটে শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টায় এবং বগুড়ায় ভোরে শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিড়া এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।

ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস ও দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এনা পরিবহনের বাসচালক শেরপুর এলাকার মঞ্জু মিয়া (৩৮), বাসের কনডাকটর জগন্নাথপুরের সালমান আহমদ (৩০), বাসের হেলপার মৌলভীবাজারের শেরপুরের জাহাঙ্গীর আলম (৩২)।  বিষয়টি নিশ্চিত করেন ওসমানী মেডিক্যাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এএসআই মানিক মিয়া।

নিহতদের মধ্যে পরে আরও যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজবাড়িয়া কান্দির আলী হায়দারের ছেলে নুরুল আমিন (৫), ঢাকার ওয়ারীর আব্দুল মালেকের ছেলে সাগর (১৯), সিলেটের ওসমানীনগরের ধরখা গ্রামের মঞ্জুর আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন (৩৮), চুয়াডাঙ্গা জেলার আমদ বাড়িয়া গ্রামের ডা. আমজাদ হোসেনের ছেলে ডা. ইমরান খান রুহেল (৩৩)।

তিনি বলেন, হাসপাতালে ইতোমধ্যে সাত জনের মৃতদেহ এসেছে। তারা সবাই এনা পরিবহনের। এছাড়াও আহত হয়ে প্রায় ২০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জানা যায়, দুর্ঘটনা কবলিত লন্ডন এক্সপ্রেস (ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-৩১৭৬) ও সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া এনা পরিবহনের বাসের (ঢাকা মেট্রো ব ১৪-৭৩১১) মধ্যে এ ঘটনাটি ঘটে।

দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে নিহত হন চার জন। আর ওসমানী মেডিক্যালে আরও তিন জন। সব মিলিয়ে নিহত হয়েছেন সাত জন। এছাড়াও হাসাপাতালে ভর্তি কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। সেজন্য মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

অপরদিকে, বগুড়ায় বাসের ধাক্কায় সিএনজি অটোরিকশার চালকসহ চার জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ভোরে শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিড়া এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ নিহতদের উদ্ধার করেছেন। এ সময় অন্তত আধা ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হয়। বগুড়া ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার বজলুর রশিদ দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নিহতদের দুই জন হলেন-বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার ডেমাজানি গ্রামের ক্ষিতিশ চন্দ্র দাসের ছেলে কালী দাস (৭২) ও ধুনট উপজেলার আনারপুর গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে শাহ্ জামাল (৩৪)। নিহত সিএনজি চালক ও অপর যাত্রীর পরিচয় পাওয়া যায়নি।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সূত্র জানায়, শুক্রবার সকালে বগুড়ার শেরপুর থেকে সিএনজি অটোরিকশা চালক তিন যাত্রী নিয়ে বগুড়া শহরের দিকে রওনা হন। ভোর ৬টার দিকে তিনি শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিড়া এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে পৌঁছান। এসময় ঢাকা ছেড়ে আসা গাইবান্ধাগামী শাওন পরিবহনের একটি বাসের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সিএনজি অটোরিকশাকে পেছন থেকে ধাক্কা দেন। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই তিন জন নিহত হন। খবর পেয়ে বগুড়ায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করেন।

আহত একজনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। বগুড়া ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার বজলুর রশিদ জানান, তাৎক্ষণিকভাবে অটোরিকশার নিহত চালক ও এক যাত্রীর পরিচয় পাওয়া যায়নি
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সরকার ও আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বগুড়ায় দুটি মহাসড়কে থ্রি হুইলার চলাচল বন্ধ হয়নি। দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অসাধু সদস্যরা আর্থিক সুবিধা নিয়ে এসব অবৈধ যান চলাচলে সহযোগিতা করেন। গ্যাস তোলার অজুহাতে থ্রি-হুইলারগুলো দিনরাত মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়ায়। এতে মাঝে মধ্যেই দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে হাইওয়ে পুলিশ শেরপুর ক্যাম্পের ইন্সপেক্টর বানিউল আনাম জানান, সকাল ৮টা পর্যন্ত গ্যাস তোলার অনুমতি থাকলেও থ্রি-হুইলারগুলো নির্দেশ অমান্য করে সারাদিনই মহাসড়কে চলাচল করে থাকে। প্রায় প্রতিদিন ১৫-২০টাসহ গত মাসে ৩৫০টি থ্রি-হুইলার জব্দ করা হয়েছিল। মালিকরা জরিমানা দিয়ে আবারও মহাসড়কে যাত্রী বহন করে থাকে। তিনি জানান, এসব অবৈধ যান ধ্বংস করার অনুমতি না থাকায় এদের রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

ইন্সপেক্টর বানিউল আনাম আরও জানান, দুর্ঘটনা যখন ঘটেছে, ওই সময়ে মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি ছিল।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 dainikjonokotha.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com