বৃহস্পতিবার, ০৫ অগাস্ট ২০২১, ০৬:৩৮ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:

কাগজ কলমে মৃত হলেও জীবিত এখনও স্কুল শিক্ষক লক্ষ্মীকান্ত!!

কাওছার মাহামুদ, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
  • Update Time : সোমবার, ১ মার্চ, ২০২১

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় লক্ষ্মী কান্ত রায় নামের এক স্কুলশিক্ষককে মৃত দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে তার নাম বাদ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিনি আদিতমারী উপজেলা বালাপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবল সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের কাকেয়াটেপা গ্রামের মৃত হিরম্ব চন্দ্র রায়ের ছেলে।

ভোটার তালিকায় নাম না থাকার কারণে তিনি গত সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে স্থানীয় কোনো নির্বাচনেই ভোটা দিতে পারেননি। শুধু তাই নয়, করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণের জন্য অনলাইন রেজিস্ট্রেশনও করতে পারেননি ওই স্কুলশিক্ষক লক্ষ্মী কান্ত রায়। এ কারনে তিনি বিভিন্ন বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসে তিনি একটি লিখিত অভিযোগ করলে ২০১৪ সালের ৩ জুন তার মৃত্যু হয়েছে মর্মে একটি কাগজ ধরিয়ে দেয়া হয় তার হাতে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তিনি মারা গেছেন মর্মে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নাম কর্তনের আবেদনপত্রে তথ্য সরবরাহকারীর নাম লেখা রয়েছে ওই গ্রামের বাসিন্দা শ্রী মন মোহন রায়ের নাম। উপজেলা নির্বাচন অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য সংগ্রহকারী ধাইরখাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোমিনুর রহমান, মোগলহাট ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিব ও তৎকালীন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আফতাবউজ্জামান স্বাক্ষরিত ওই আবেদনপত্রে তাকে মৃত দেখানো হয়। এ ঘটনায় একে অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছেন নাম কর্তনের আবেদনপত্রে স্বাক্ষরকারীরা।

তথ্য সরবরাহকারী শ্রী মন মোহন রায় জানান, আবেদনপত্রে তার নাম ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ তিনি এ বিষয়ে কাউকে কোনো তথ্য দেননি।

মোগলহাট ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিব দাবি করেন, নাম কর্তনের আবেদনপত্রে তার স্বাক্ষর ও অফিস সিল জাল করা হয়েছে।

তথ্য সংগ্রহকারী মোমিনুর রহমান জানান, তিনি অন্য ইউনিয়নের লোক। তথ্য সরবরাহকারীর তথ্যমতেই স্কুলশিক্ষক লক্ষ্মী কান্ত রায়কে মৃত দেখানো হয়েছে। ওই নামে অন্য কেউ মারা যাওয়াতে এমন সমস্যা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আফতাবউজ্জামান বলেন, ‘স্কুলশিক্ষকদের এই কাজে (ভোটার তালিকার জন্য তথ্য সংগ্রহ করা) নিয়োগ দেয় উপজেলা নির্বাচন অফিস। সরবরাহকৃত তথ্যের ওপর সুপারভাইজাররা শতকরা ২৫ ভাগ যাচাই-বাছাই করে থাকেন। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আবেদনপত্রে আমরা স্বাক্ষর করে থাকি।চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন অস্বীকার করলে তো আর কিছু করার নেই।

লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আজাদুল হেলাল জানান, ওই নামে অন্য এক লোক মারা যাওয়ায় ভুলবশত তার নাম আবেদনপত্রে মৃত হিসেবে দেখানো হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা হবে বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 dainikjonokotha.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com