মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
কুড়িগ্রামে বিএনপি নেতার মৃত্যুতে জেলা বিএনপির শিশু বিষয়ক সম্পাদকের শোকবার্তা পাবনায় নিখোঁজ হওয়া শিশুকে ৩৬ ঘন্টার মধ্যে আশুলিয়া থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ নোয়াখালীতে ১২ মামলার আসামী অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার পঞ্চগড়ে প্রতিবন্ধী ভাতা‘র টাকা মেরে দিলেন ইউপি সদস্য  রৌমারীতে পরকীয়ার জেরে যুবক খুন নওগাঁয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে হাসি ফুটলো ৫০২ ভূমিহীন পরিবারের মুখে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা! বন্ধ করে দেওয়া হবে ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান জমি সহ সুসজ্জিত পাকাঘরে স্থায়ী নিবাস হচ্ছে কুড়িগ্রামের ১১শ ভূমিহীনের গৃহহীন পরিবারের মাঝে জমি ও গৃহ প্রদান কার্যক্রম ভার্চুয়ালে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী 

দ্বারে দ্বারে ঘুরেও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা বাবার স্বীকৃতি পাচ্ছেন না সন্তানরা

মোঃ বাবুল হোসেন পঞ্চগড় প্রতিনিধি
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২ মার্চ, ২০২১

পঞ্চগড়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরেও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা বাবার স্বীকৃতি পাচ্ছেন না সন্তানরা।

মনছুর আলীকে একাত্তরে নির্মমভাবে হত্যা করে পাকসেনারা। লাল মুক্তিবার্তায় শহীদ মনছুর আলী হিসেবে উল্লেখ রয়েছে তার নাম। তা সত্যেও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি নিয়ে বিরম্বনায় পড়েছেন তার সন্তানরা। ২০১৫ সালে কয়েক মাস তার পরিবার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পেলেও হঠাৎ তা বন্ধ হয়ে যায়। তারপর থেকে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে দপ্তরে ঘুরলেও কোন সমাধান মিলেনি। ওই মুক্তিযোদ্ধার পরিবার গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মনছুর আলীর একমাত্র ছেলে মোসলেম উদ্দিন মিন্টু জানান, তার জন্মস্থান দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার হলদিবাড়ি হাসপাতাল চত্বর এলাকায়। বর্তমানে তিনি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা সদরে বসবাস করছেন। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মনছুর আলী সে সময়ে স্থানীয় রুরাল হেলথ সেন্টারে মেডিকেল অফিসারের গাড়ি চালক হিসেবে চাকুরি করতেন।

প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি মুক্তিবাহিনীর সাথে কাজ করতে থাকেন। মেডিকেল অফিসারের গাড়িতে করেই মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র, খাবার সহ বিভিন্ন জিনিস পত্র সরবরাহ করতেন তিনি। ১৯৭১ সালের ১৫ এপ্রিল খান সেনারা তাকে ধরে হাসপাতাল এলাকাতেই নির্মমভাবে হত্যা করে। সেই দিনের নির্মম হত্যাকান্ডের বর্ণনা পাওয়া যায় তৎকালীন “গণকণ্ঠ” নামক এক পত্রিকায়। তারপর স্বাধীন বাংলাদেশে সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে দিন যাপন করেন মনছুর আলীর স্ত্রী মেহেরুন নেছা। ৩ মেয়ে ও ১ ছেলেকে খুব কষ্টে লালন পালন করে বড় করেন। ১৯৯৮ সালে তিনি মারা যান। ২০০০ সাল থেকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নাম অন্তর্ভূক্ত করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন তার সন্তানরা। এক এক করে সব ধরনের কাগজপত্র সংগ্রহ করেন তারা। পেয়ে যান মুক্তিবার্তায় তাদের বাবার নামও। পরে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার বাবার নাম অন্তর্ভূক্ত হয়। ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৭০ হাজার টাকা ভাতাও পান তার পরিবার। তারপরেই হঠাৎ করে ভাতা বন্ধ করে দেয়া হয়। তার সন্তানরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তাদের বাবা ও দাদার নাম জালিয়াতি করে পার্বতীপুরের এক ব্যক্তিও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভাতা তুলছেন। পরে তারা অভিযোগ করলে তার ভাতাও বন্ধ করে দেয়া হয়। কিন্তু প্রকৃত শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হওয়া সত্যেও এখনো ভাতা বন্ধ রয়েছে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মনছুর আলীর পরিবারের। উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আবেদন করলেও দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে বিষয়টি। এতে চরম বিরম্বনায় পড়েছেন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটি। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বাবার স্বীকৃতিসহ বন্ধ ভাতা আবারও চালু করার দাবি অসহায় এই পরিবারটির।

তিনি আরো বলেন, আমার বাবা দেশের জন্য যুদ্ধ করে শহীদ হয়েছেন। লাল মুক্তি বার্তাতেও নাম রয়েছে। কিন্তু তারপরও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার বাবার স্বীকৃতি নিয়ে আজও বিরম্বনা পোহাতে হচ্ছে আমাদের। এক ব্যক্তি জালিয়াতি করে আমার বাবা ও দাদার নাম নকল করে জাল ভোটার আইডি কার্ড তৈরি করে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা তুলছিল। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে লাল মুক্তিবার্তায় নাম থাকার পরেও কিভাবে একজন জীবিত ব্যক্তি ভাতা তুলতে পারেন আমার বোঝে আসে না। ওই ব্যক্তির জন্য আমার বাবার স্বীকৃতিও ঝুলে আছে বন্ধ হয়ে গেছে ভাতা। বিষয়টি আমরা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ বিষয়ে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাশিদ কায়সার রিয়াদ বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তারা যদি আমাকে সব তথ্য সরবরাহ করেন আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবো।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 dainikjonokotha.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com