মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
কুড়িগ্রামে বিএনপি নেতার মৃত্যুতে জেলা বিএনপির শিশু বিষয়ক সম্পাদকের শোকবার্তা পাবনায় নিখোঁজ হওয়া শিশুকে ৩৬ ঘন্টার মধ্যে আশুলিয়া থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ নোয়াখালীতে ১২ মামলার আসামী অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার পঞ্চগড়ে প্রতিবন্ধী ভাতা‘র টাকা মেরে দিলেন ইউপি সদস্য  রৌমারীতে পরকীয়ার জেরে যুবক খুন নওগাঁয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে হাসি ফুটলো ৫০২ ভূমিহীন পরিবারের মুখে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা! বন্ধ করে দেওয়া হবে ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান জমি সহ সুসজ্জিত পাকাঘরে স্থায়ী নিবাস হচ্ছে কুড়িগ্রামের ১১শ ভূমিহীনের গৃহহীন পরিবারের মাঝে জমি ও গৃহ প্রদান কার্যক্রম ভার্চুয়ালে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী 

আপেল কুলে স্বপ্ন জয় নজরুলের!

বিশেষ প্রতিবেদক:
  • Update Time : শুক্রবার, ৫ মার্চ, ২০২১

গল্পটা প্রায় ১০ বছর আগের। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী নজরুল ইসলাম। স্থানীয় একটি কলেজের পাশে আপেল কুলের (বরই) বাগান দেখে তারও শখ জাগে কুলের বাগান করার। বাগান মালিকের কাছে নিজের ইচ্ছা বিনিময় করে ইতিবাচক সাড়াও মেলে, মেলে পরামর্শ। কিশোর মনের সেই বাসনা বাস্তবায়নে আর দেরি কিসের? লেগে পড়লেন কাজে। সেবছরই পৈত্রিক জমিতে ৭৫টি রাজশাহী আপেল কুল জাতের বড়ই চারা দিয়ে বাগান শুরু করেন কিশোর নজরুল। আর পেছনে ফিরতে হয়নি।স্বপ্ন এখন বাস্তবতার আলো ফুটিয়ে এলাকাবাসীর গর্ব করা এক উদ্যোক্তার নাম নজরুল ইসলাম।

নজরুলের কুল বাগান এখন এলাকায় দৃষ্টান্ত তৈরি করছে। ছাত্রাবস্থায় বাগানের কুল বিক্রি করে নিজের পড়াশোনার খরচ মিটিয়ে পরিবারকে সহায়তা করেছেন, বছর বছর কিনছেন জমিও। কুল বিক্রির টাকায় সম্প্রসারিত করেছেন বাগান, পুরণ করছেন নিজের ইচ্ছা। বর্তমানে স্নাতকোত্তর(মাস্টার্স) পরীক্ষার্থী নজরুল বিয়ে করে ঘর সংসার শুরু করেছেন এই আপেল কুল বিক্রির উপার্জন দিয়েই। আপেল কুল দিয়েই সব কূল (জীবণের অধ্যায়) জয় করছেন নজরুল।

এটা কোনও কল্পকাহিনী নয়। ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা জেলার মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামে নজরুল ইসলামের বাড়ি। ওই গ্রামের আছির উদ্দিন- সুন্দরী খাতুন দম্পতির ছেলে তিনি। গ্রামে পৈত্রিক জমিতে আপেল কুলের বাগান করে নিজের ভাগ্য বদলের উজ্জ্বল এক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন তরুণ উদ্যোক্তা নজরুল ইসলাম। তার বাগানে আপেল কুলের ফলন দেখে খোদ কৃষি বিভাগও কপালে চোখ তুলেছে। প্রায় চারশ’টি বড়ই গাছে ঝুলছে লাখ লাখ টাকার আপেল কুল!

নজরুল ইসলাম জানান, ২০১১ সালে মাত্র ৭৫ টি রাজশাহী আপেল কুলের গাছ দিয়েূ তার বাগানের শুরু। সেসব গাছ থেকে প্রতিবছর গাছ প্রতি প্রায় ৩ মণ করে (পুরো বাগানে ৯ টন) আপেল কুলের ফলন পেতেন তিনি। এরপর ইউটিউবে শায়েখ সিরাজের একটি প্রতিবেদনে কাশ্মিরি আপেল কুল নিয়ে প্রতিবেদন দেখে অনুপ্রাণিত হন তিনি। ২০২০ সালে যশোর থেকে ৩২০ টি কাশ্মিরি আপেল কুলের চারা ক্রয় করে সেই চারায় বাগান সম্প্রসারিত করেন নজরুল। মাত্র ১০ মাসে সেই ৩২০ টি চারা এখন ফলে পরিপূর্ণ। প্রতিটি গাছে প্রায় ৪০-৪৫ কেজি কাশ্মিরি আপেল কুলের ফলন হয়েছে বলে জানান নজরুল।

নজরুল বলেন, ‘ রাজশাহী আপেল কুলের গাছগুলো বেশ বড় আকারের হয়। কিন্তু কাশ্মিরি আপেল কুলের গাছ অনেক ছোট। উভয় জাতের ফলন অত্যন্ত বেশি। রাজশাহী আপেল কুলের প্রতি গাছে প্রায় তিন মণ করে এবং কাশ্মিরি আপেল কুলের প্রতি গাছে ৪০-৪৫ কেজি করে ফলন পাওয়া যাচ্ছে। সে হিসেবে এবছর বাগানে প্রায় সাড়ে ২১ টন আপেল কুলের ফলন পাওয়ার প্রত্যাশা করছি।’ ইতোমধ্যে ফল বিক্রিও শুরু করেছেন বলে জানান এই উদ্যোক্তা।

‘ রাজশাহী আপেল কুল ১৬শ’ টাকা মণ এবং কাশ্মিরি আপেল কুল ১৫শ’ টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে। সে হিসেবে এবার বাগান থেকে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকা উপার্জন হবে বলে আশা করছি।’ অনেকটা উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেন নজরুল।

‘ এক একর ৪২ শতক আয়তনে আমার বাগান। এই বাগান দিয়েই আমার পরিবারের সব চাহিদা মেটে। প্রতি বছর কিছু কিছু জমিও কিনছি আমি।’ যোগ করেন তিনি।

বাগানে গাছের পরিচর্যা সহজ ও খরচ অত্যন্ত কম জানিয়ে নজরুল বলেন, ‘ চারার মূল্য বাদে এ বছর আমার বাগানে সেচ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকসহ মোট সবোর্চ্চ ৪০ হাজার টাকা ব্যয় হতে পারে। কিন্তু মুনাফার পরিমাণ অনেক বেশি।’

বেকারদের জন্য আপেল কুল চাষ কতটা সহজসাধ্য, এমন প্রশ্নে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার এই সফল উদ্যোক্তা বলেন, ‘ কুল বাগানে তেমন কোনও পরিশ্রম নেই, খরচও অত্যন্ত কম। এটা উপার্জনের অনেক সহজ একটা উপায়। কুল বাগান যে করতে পারবে না তার দ্বারা কোনও কাজই করা সম্ভব না।’ বন্যায় বাগানে আড়াই ফুট জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও তার বাগানে চারার কোনও ক্ষতি হয়নি বলেও জানান তিনি।

নজরুলের নিজ উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় তার বাগানে সফলতা এলেও বর্তমানে উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা নিয়মিত তার বাগানের খোঁজ রাখছেন। নজরুলের আপেল কুল বাগানের সফলতায় তার উদ্যোগকে সমর্থন ও উৎসাহ দিতে সম্প্রতি তাকে মাল্টা প্রদর্শনী বাগানের জন্য ১২০টি মাল্টা চারা দিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। এতে আরও বেশি অনুপ্রাণিত এই উদ্যোক্তা।

‘উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিনু আক্তার আমার আপেল কুল বাগানের সফলতা দেখে আমাকে মাল্টা চাষে অনুপ্রাণিত করেছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আমাকে মাল্টা প্রদর্শনীর জন্য চারা দেওয়া হয়েছে। ইনশাআল্লাহ আমি মাল্টা চাষেও সফলতা পাবো।’

রাজীবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকতার্ গোলাম রায়হান বলেন, ‘নজরুলের সফলতায় আমরা বিস্মিত। একজন তরুণ উদ্যোক্তা শুধুমাত্র একাগ্রতা দিয়ে এই ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন। উপজেলায় তার এই সাফল্য অদ্বিতীয়। খুব শিঘ্রই হয়তো সে কুলের চারার উৎপাদনেও সাফল্য পাবে।’

‘জেলার চরাঞ্চলের তুলনামূলক উঁচু জমিতে আপেল কুলের চাষ অনেক বেকার যুবকের আয়ের অন্যতম মাধ্যম হতে পারে। নজরুলের বাগান সেরকমই একটি দৃষ্টান্ত।’ যোগ করেন এই কৃষি কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 dainikjonokotha.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com