রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ০৩:৪১ পূর্বাহ্ন

কামারখন্দে সূর্যমুখী চাষে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা

লিমন হোসেন
  • Update Time : বুধবার, ১০ মার্চ, ২০২১

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার মধ্যে ভদ্রঘাটে সুর্যমুখী ফুলের চাষে লাভের মুখ দেখছেন কৃষক । সূর্যমুখী থেকে মধু আহরণের স্বপ্নও দেখছেন কৃষকেরা। উপজেলায় পরীক্ষামূলক চাষে সফলতা দেখে অনেক কৃষক এই ফুলের চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। কৃষিতে সাফল্যে কামারখন্দ উপজেলা অন্য উপজেলার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। এক সময় যে জমিতে চাষাবাদ হতো না সেসব জমি এখন শীতকালীন সবজিতে সবুজ। যেখানে ছিল ধানক্ষেত সেখানে এখন হাসছে সূর্যমুখী ফুল। মুজিববর্ষের অঙ্গীকার হিসাবে উপজেলার কৃষি অফিসের সহযোগিতায় দ্বিতীয়বারের মতো সূর্যমুখী ফুলের চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন কৃষকেরা। আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন বেশ কয়েকজন কৃষক। তাদের স্বপ্ন, সূর্যমুখীতে মৌচাক বসিয়ে মধু আহরণ করবেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানা যায়, সূর্যমুখী চাষে কোন লক্ষমাত্রা ছিল না। কৃষি অফিস পুর্নবাসন কর্মসূচির আওতায় বীজ দেওয়া হয়েছিল। কৃষকেরা সেই বীজ ২০ হেক্টর জমিতে চাষ করেছেন।

সূর্যমুখী ফুলের বীজ থেকে সহজে উন্নত মানের তেল ও খৈল উৎপাদন হয়। পাশাপাশি পুষ্টিকর সবজি হিসেবেও সূর্যমুখী জনপ্রিয়। তাছাড়া এই ফুলের মাধ্যমে মৌচাক বসিয়ে বাণিজ্যিকভাবে মধু উৎপাদন করা সম্ভব। সেই সাথে জ্বালানির চাহিদা পূরণেও ভূমিকা আছে। সূর্যমুখী বীজ রোপণের ৯০-১০৫ দিনের মধ্যে কৃষকেরা ফুল থেকে বীজ ঘরে তুলতে পারেন। প্রতি বিঘা জমিতে ছয় থেকে সাড়ে ছয় মণ বীজ পাওয়া যায়। বিঘাপ্রতি কৃষক ১০-১১ হাজার টাকার বীজ বিক্রি করতে পারেন। লাভজনক হওয়ায় এই ফুল চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। সূর্যমুখীর প্রতি ফুল থেকে ১৫০-২০০ গ্রাম বীজ পাওয়া যায়। প্রতিকেজি বীজ থেকে কমপক্ষে আধা লিটার তেল উপাদন সম্ভব। প্রতি শতক জমিতে ৮ কেজি বীজ উৎপাদন হয়। এতে তেল উপাদন হবে সাড়ে ৩ থেকে ৪ লিটার পর্যন্ত। প্রতি লিটার তেলের সর্বনিম্ন বাজার মূল্য ২৫০ টাকা। প্রতি শতক জমিতে খরচ হয় সর্বোচ্চ ২০০ টাকা। স্বাস্থ্য রক্ষা ও রোগ জীবাণু প্রতিরোধে এই ফুলের উৎপাদিত তেলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ধান উৎপাদনে সেচ, নিড়ানি, বীজ, সার, কীটনাশকসহ উৎপাদন খরচ মিটিয়ে কৃষকেরা তেমন বাজার মূল্য পায় না। অনেক সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সেচের অভাবে প্রত্যাশিত ফলনও হয় না। এই কারণে বোরো চাষের বিকল্প হিসেবে শীতকালীন সবজি চাষে অধিকাংশ কৃষকের আগ্রহ বেশি। এ বছর নতুন চমক হিসাবে প্রথমবারের মতো যোগ হলো সূর্যমুখী ফুলের চাষ। ধানের চেয়ে এই ফুল চাষের খরচ তিন গুণ কম এবং লাভজনক। লোনাপানি যুক্ত জমিতে ধান ও অন্যান্য সবজি চাষ করা সম্ভব না হলেও সূর্যমুখী চাষে তা সহায়ক।

কৃষক মোঃ শাহাদাৎ হোসেন জানান, কৃষি অফিস থেকে বীজ, সার, কীটনাশকসহ যাবতীয় পরামর্শে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করা হয়। এখানে শুধুমাত্র আমার ১ বিঘা জমি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো সূর্যমুখী চাষ করতে পারায় আমি আনন্দিত।

অন্যান্য ফসলের তুলনায় এই ফুল চাষে খরচ কম, এছাড়াও আমি নিজস্ব শ্রমে ফুল চাষ করেছি। আশা করি সুর্যমুখী বীজ বিক্রি করে আর্থিক লাভবান হবো।
আগামী বছর কৃষি বিভাগের সহায়তায় বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক আকারে চাষ করার পরিকল্পনা আছে।

উপজেলা উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আবুল বায়েস বলেন, কৃষকদের সূর্যমুখী ফুল চাষে কোন অভিজ্ঞতা ছিল না। কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে কৃষকদের বীজ দিয়েছি চাষ করার জন্য। সেই বীজ থেকে ২০ হেক্টর জমিতে চাষ করেছেন। আমরা কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে গিয়ে নানা ধরনের পরামর্শ দিয়েছি। কীভাবে চাষ করলে এই ফুল চাষে লাভবান হওয়া যায়। এছাড়াও সুর্যমুখী ফুলের বীজ বাজারে ক্রেতাদের চাহিদা থাকায় দামও ভালো পাওয়া যায়। সূর্যমুখীর তৈলে ব্যাড ক্লোস্টোরেনের মাত্রা কম থাকে, যা সাস্থ্য জন্য উপকার। আমরা আশা করি, আগামী মৌসুমে উপজেলায় চলতি মৌসুমের তুলনায় এই ফুল চাষ বেশি করবে কৃষক।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 dainikjonokotha.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com