রবিবার, ২০ জুন ২০২১, ০৪:৪৭ অপরাহ্ন

রাজারহাটে ব্যাপক হারে বাড়ছে ভ্রাম্যমান মাদক বিক্রেতা; কিশোররাই মূল হাতিয়ার

অনুসন্ধানী প্রতিবেদক, রাজারহাট, কুড়িগ্রাম
  • Update Time : শুক্রবার, ১২ মার্চ, ২০২১

মাদকের বিরুদ্ধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’র জিরো টলারেন্স বাস্তবায়নের নির্দেশনায় আইন শৃংখলা বাহিনীর দেশজুড়ে কঠোর তৎপরতা থাকা সত্ত্বেও কুড়িগ্রামের  রাজারহাট উপজেলায় তীব্র গতিতে বাড়ছে ভ্র্যাম্যমান মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় মাদকের প্রধান ডিলার হচ্ছে  ছিনাই ইউনিয়নের (১)আব্দুর রহমান বদী, পিতা-অজ্ঞাত  সাং কিং ছিনাই (২)জহুর আলী, পিতা-মোকছার আলী (৩)এরশাদুল হক, পিতা-মোকছার আলী এরা একাধিক মাদক মামলার আসামী। সম্প্রতি এরশাদুল হককে র‌্যাব গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করলেও এদের নিযুক্ত কয়েকজন সেলসম্যানের মাধ্যমে ব্যাপক হারে চলছে মাদকের রমরমা বাণিজ্য। যার ফলে নিজেরা গ্রেপ্তার হলেও বাইরে রেখে তাদের সেলসম্যানের মাধ্যমে কারাগারে থেকেও স্বস্থিতে চালিয়ে যাচ্ছে মাদক ব্যবসা। বসে নেই তাদের স্ত্রী-সন্তানেরাও। স্হানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির সন্তান সহ রাজনৈতিক পরিচয়ে কাঠালবাড়ি ও বৈদ্যেরবাজারের কয়েক ব্যক্তি মটর সাইকেলে ভ্রাম্যমানভাবে ছিনাই মোবাইল টাওয়ার থেকে একতার বাজার রোডে ফেন্সিডিল সরবরাহ করে থাকে। এদের মাধ্যমে ছিনাই ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে চলছে ভ্রাম্যমান মাদকের রমরমা ব্যবসা। সব সময় ধরা ছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে এসব সেলসম্যান।

এছাড়াও রাজারহাট উপজেলা প্রপারে কয়েকজন কিশোর নিজেকে রাজনৈতিক দলের কর্মী পরিচয়ে দলীয় কিছু বড় ভাইদের ছত্রছায়ায়  চালিয়ে যাচ্ছে  মাদকের বাণিজ্য। গড়ে তুলছে কিশোর গ্যাং। মাদক ব্যবসায়ীদের নিত্য নতুন কলা কৌশলের কাছে অনেকটাই অসহায় আইন শৃংখলা বাহিনী। আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে মোবাইল ফোনে মাদকসেবীদের সাথে যোগাযোগ করে একেক সময় একেক স্পটে ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির  মাধ্যমে রাজারহাট ইউপি ও চাকিরপশার ইউপিতে  ভ্র্যাম্যমান ভাবে চলছে মাদক সরবরাহ।এলাকার এক সময়ের মোবাইল ছিনতাইকারী, প্রেমিক যুগলকে আটকে রেখে টাকা পয়সা লুন্ঠনকারী বিভিন্ন অপরাধে জড়িত  কিশোর গ্যাং-এর সদস্যরা বর্তমানে মাদকের নেশায় আসক্ত হয় পড়েছেন। নেশার  টাকা জোগাড় করতে মাদক ব্যবসায়ীর সাথে কমিশন চুক্তিতে ফেন্সিডিল, গাঁজা, ইয়াবা, ট্যাপেন্ডা, লোপেন্ডা সরবরাহের সেলসম্যান হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।

ফেন্সিডিল সরবরাহের নিরাপদ রুট হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে রাজারহাট ইউপির কিশামত পুনকর শিমুলতলা রোড়, সুইদির পুকুর পাড়,  বোতলারপাড় বটতলী, চাকিরপশার ইউপির ব্র্যাক মোড়  রোড, মাইনর স্কুল আজমের দোকানের পিছনে, মাইনর স্কুল টু চক্রাটারী রোড, ব্র্যাক থেকে কালীরপাট রোড, উমরমজিদ ইউনিয়নের ফরকেরহাট, ফরকেরহাট হাই স্কুল মাঠ, ফেডারেশন বাজার, বালাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিণ দিকে পঁচার মোড়।

ট্যাপেন্টা ও ইয়াবার নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে হাসপাতাল মোড়, রেলগেট মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের পিছেন, চান্দামারী হাইস্কুলের মোড় সহ বাজারেও কৌশলে মাদক সরবরাহ করে থাকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এ প্রতিবেদককে জানায়, বড় বড় মাদক ব্যবসায়ীদের কেউ প্রশাসনকে ট্যাক্স দিয়ে, কেউ কেউবা মন্ত্রী-এমপিদের দোহাই দিয়ে অথবা প্রশাসনকে জিম্মি করেই চালাচ্ছে মাদক ব্যবসা।

এ বিষয়ে রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাজু সরকার বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত রাজারহাট থানা পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে। বিট পুলিশিং এর মাধ্যমে আমরা জনসাধারণকে নিয়ে মাদকের কুফল সম্পর্কে অবগত করতেছি। কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 dainikjonokotha.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com