রবিবার, ২০ জুন ২০২১, ০৪:৪৫ অপরাহ্ন

ফুলবাড়ীতে অবহেলিত শহীদ মুক্তিযোদ্ধার কবর

মাহফুজ, ফুলবাড়ি (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৬ মার্চ, ২০২১

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের সেই জ্বালাময়ী ভাষণ শুনে ঘরে বসে থাকতে পারেন নি আলী হোসেন। মহান নেতার ডাকে সারা দিয়ে দেশের মাটি ও মানুষকে শত্রুমুক্ত করতে অস্ত্রহাতে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন ১৭ বছরের যুবক আলী হোসেন। হানাদার বাহিনীর সাথে সম্মুখযুদ্ধে বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে শাহাদাৎ বরণ করেন তিনি। সেই দিনের তাঁর সাথে থাকা ও মৃত্যুর পরে দাফন কাজে অংশ নেয়া দক্ষিণ রাবাইতারী গ্রামের আজগার আলী (৭১),আমিন উল্লাহ ব্যাপারী (৮৫), ফয়েজ উদ্দিন (৬৮), নূর হোসেন মিয়া (৮৮) জানিয়েছেন সেই দিনের যুদ্ধের ইতিহাস।

দিনটি ছিল ১৯৭১ সালের ১৮ আগষ্ট। কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার বেতবাড়ী নামক এলাকায় পাক বাহিনীর সাথে তুমুল লড়াই হয়।সেই লড়াইয়ে শত্রুদের একটা বুলেট আঘাত হানে আলী হোসেনের বুকে। গুরুতর আহত আলী হোসেনকে নিয়ে আসা হয় ফুলবাড়ী উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের দক্ষিণ রাবাইতারী গ্রামের নন্দ কুমারের বাড়ীতে। সেখানেই ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের অস্থায়ী ক্যাম্প। ক্যাম্পে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ১৭ বছরের তরতাজা যুবক আলী হোসেন। সকাল হলে মুক্তিযোদ্ধাগণ সহ আমরা এলাকার সবাই তাঁর দাফন কাফনের আয়োজন শুরু করি এবং এখানেই মসজিদের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
তখন থেকেই এই বীরশহীদ এখানে চির নিদ্রায় শায়িত আছেন। কেটে গেছে প্রায় ৫০ বছর, এতো দিনেও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেনের কবর সংরক্ষণে কেউ এগিয়ে আসেনি। অযত্ন আর অবহেলায় তাঁর কবরটির জরাজীর্ণ অবস্থা। আর কবরের সাথেই দেয়া হয়েছে টয়লেট এটা খুব দুঃখ জনক, বলেন তারা।

স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে অস্ত্র হাতে নিয়ে শত্রু বাহিনীর সাথে প্রাণপণ লড়াই করে জীবন উৎসর্গকারী বীর শহীদের কবরের করুন পরিণতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারী ও আব্দুর রাজ্জাক বলেন- আমরা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছি। আমাদের অনেক মুক্তিযোদ্ধা শত্রুদের গুলিতে শহীদ হয়েছেন। তাদের মধ্যে এই শহীদ আলী হোসেন একজন। আজকে তার কবরের করুণ পরিনতি দেখে খুব কষ্ট লাগছে। তার কবরের পাশে দেয়া হয়েছে পায়খানা। কবরের উপড় ফেলা হয়েছে ব্যবহৃত টিস্যু, ময়লা-আবর্জনা। এটাই কি একজন বীর শহীদের প্রাপ্ত সম্মান? এজন্যই কি আমরা দেশ স্বাধীন করেছি? তাঁরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট দাবী জানান অনতিবিলম্বে যেন কবরটি সংস্কার করে সংরক্ষণ করা হয়। প্রতি বছর তার মৃত্যু বার্ষিকীতে তার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় কবর জিয়ারত করা হয় এবং তাঁর কবর সংলগ্ন কাঁচারাস্তাটি পাকা করে এই শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন স্মরণী নামে নাম করণ করা হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদুর রহমান বলেন- শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেনের কবর যথাযথ মর্যাদায় সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 dainikjonokotha.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com