রবিবার, ২০ জুন ২০২১, ০৩:৫২ অপরাহ্ন

পঞ্চগড়ে  ১শত টাকা ট্যাক্স না দিলে, মিলেনা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর চাল

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
  • Update Time : বুধবার, ১৭ মার্চ, ২০২১

শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ” এই শ্লোগানে যখন খাদ্য অধিদপ্তর কতৃক পরিচালিত হতদরিদ্রদের জন্য স্বল্প মুল্যে খাদ্য শস্য দেশব্যাপী বিতরন চলে। তখনই খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর ১০ টাকা কেজির চাল নিতে ইউনিয়ন পরিষদকে বাধ্যতামূলক দিতে হচ্ছে  ১শত টাকা। অন্যথায় চাল ছাড়াই বাড়ি ফিরছেন সুবিধাভোগিরা। তবে ওই ১শত টাকার বিনিময়ে দেয়া হচ্ছে একটি রশিদ। যেখানে লেখা- ট্যাক্স, রেট ও বিবিধ প্রাপ্তি রশিদ। দেখানো হয়েছে- বসতবাড়ির বাৎসরিক মূল্যের উপর কর বাবদ এই টাকা। ঘটনাটি পঞ্চগড় সদর উপজেলার ১নং অমরখানা ইউনিয়নে অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকার করলে পরিষদ কর্তৃপক্ষের সাথে বাকবিতণ্ডা হয় সুবিধাভোগিদের। এক পর্যায়ে প্রায় দুই ঘন্টাব্যাপি চাল বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ থাকে।

মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) সকালে অমরখানা ইউনিয়নের মডেল হাট ডিলার আশরাফ সিদ্দিক সোহেলের চাল দোকানে চাল বিতরণ কালে এ ঘটনার সম্মুখীন হন সুবিধাভোগিরা।

জানা গেছে, এদিন চাল বিতরণ করছিলেন ডিলার আশরাফ সিদ্দিক সোহেল। তবে অতিরিক্ত টাকা গ্রহণের সাথে সম্পৃক্ত নন তিনি।

সুবিধাভোগিরা বলছেন, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর আওতায় ১০ টাকা করে প্রতি ৩০ কেজি ওজনের চালের বস্তার দাম হয় ৩শত টাকা। কিন্তু এবার চাল নেওয়ার আগেই পরিষদের লোকজন সুবিধাভোগীদের কার্ড নিয়ে অতিরিক্ত ১শত টাকা ছাড়া চাল দিবে না বলে জানান। সবমিলিয়ে ৩০ কেজি চালে গুণতে হয়েছে ৪শত টাকা।

তারা বলছেন, বলা হচ্ছে বসতবাড়ির বাৎসরিক মূল্যের কর বাবাদ এই টাকা। কিন্তু এই টাকা নিলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিবে, এভাবে বাধ্য করে কেন নিবে? আর কর কি শুধু আমরা দিবো, সাধারণ মানুষ দিবেনা? এই নিয়ে সুবিধাভোগীদের সাথে বাক বিতন্ডায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে চাল বিতরন বন্ধ হয়ে গেলে ইউনিয়ন পরিষদের লোকজন অবস্থা বেগতিক দেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে দুপুর ১২টার পর পুনরায় চাল বিতরন শুরু করে।

এ বিষয়ে ডিলার আশরাফ সিদ্দিক সোহেল জানায় চেয়ারম্যানের লোকজন ট্যাক্সের ১শত টাকা ছাড়া চাল না দিলে সুবিধাভোগীরা ক্ষিপ্ত হয়ে যায়, পরে যাদের কার্ড আছে তাদের সবাইকে আমি চাল দিয়ে দিছি।

খবর পেয়ে প্রতিবেদক অমরখানা ইউনিয়ন পরিষদে গেলে সেখানে ও দেখা যায় একই চিত্র প্রতি জনের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ১শত টাকা টাকা, নিচ্ছেন খোদ পরিষদের হিসাব সহকারী মহানন্দ রায় ও ইউপি সদস্য ফজলু। সাংবাদিক দেখে ইউপি সদস্য ফজলু পরিষদ থেকে সটকে পরে কিন্তু তখনো টাকা নিচ্ছে হিসাব সহকারী মহানন্দ রায়। এ সময় সুবিধা ভোগী আজিমা খাতুন, রফিকুল ও ইসলাম খান বলেন অতিরিক্ত ১শত টাকা ছাড়া চাল দিচ্ছে না। ৩০কেজি চালের ১ টা বস্তা নিতে ৪শত টাকা দিতে হল। বাড়তি ১শত টাকা ছাড়া চাল দেয় না। অমরখানা ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী মহানন্দ রায় বলেন চেয়ারম্যান ১শত টাকা করে ট্যাক্স নিতে বলেছেন তাই নিচ্ছি কিছু বলার থাকলে চেয়ারম্যান কে বলেন।

অমরখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান নুরু চিৎকার করে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে বলেন ট্যাক্সের টাকা ছাড়া চাল দিব না। কি লেখার আছে লেখেন।

পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ হোসেন বলেন আমি কথা বলেছি। কাল বিষয় টা দেখবো।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 dainikjonokotha.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com