রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ০২:১১ পূর্বাহ্ন

প্রশাসনের নাকের ডগায় পঞ্চগড়ের নিম্নমানের সয়াবিন তেল চা পাতা সয়লাব

মোঃ বাবুল হোসেন পঞ্চগড় প্রতিনিধি
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল, ২০২১

পঞ্চগড়ের বিভিন্ন হাট বাজার গুলোতে বিক্রি হচ্ছে ভেজাল সয়াবিন তেল। জেলার আনাচে কানাচে গড়ে উঠেছে নাম সর্বস্ব সয়াবিন তেলের কারখানা।

জেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা এসব কারখানা থেকে নিম্নমানের এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকিপুর্ণ তেল গ্রামীণ হাট বাজার গুলোতে সয়লাব হয়ে উঠেছে। এতে সাধারন ক্রেতারা প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন।

ভেজাল তেলের খবর শুনে নাগরিকরাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছেন তারা। ভয়ানক এবং দীর্ঘ মেয়াদী রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। সারা দেশে এখন ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ ফর্টিফাইড সয়াবিন ও পাম অলিন তেল বিক্রি করার কথা। কিন্তু ভোজ্য তেল বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এ নিয়ম সঠিকভাবে অনুসরণ না করে ভেজাল ভোজ্য তেল বিক্রি করছে।

চিকিৎসকরা বলছেন এই ভেজাল সয়াবিন ও পাম অলিন তেল মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। মানবদেহ ক্ষয়কারী এসিডের মাত্রা বেশি। এই তেল চোখ, নাকের ক্ষতি করে। শুষ্কতা ও প্রদাহ তৈরি করে এবং ফুসফুস ও লিভারের ব্যাপক ক্ষতি করে। বোদা, দেবীগঞ্জ উপজেলায় পাওয়া যাচ্ছে ভেজাল তেল।

এদিকে গ্রামীণ এলাকার বাড়ি গুলোতে গড়ে উঠেছে সয়াবিন তেলের বোতল জাতের কারখানা।

অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন এবং ময়লাযুক্ত ঘরে এসব তেল বোতলজাত করা হচ্ছে। সয়াবিন তেলের পাশাপাশি তারা উৎপাদন করছেন ভেজাল সেমাই, সরিষার তেল সহ নানা ধরনের খাদ্যপণ্য। এসব কারখানার কোন অনুমোদন নেই। অসাধু ব্যবসায়িরা প্রশাসনকে ফাঁকি দেয়ার জন্য গ্রামীণ হাট বাজার গুলোতে এসব তেল সরবরাহ করছেন।

খাদ্যপণ্য উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশ ষ্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেষ্টিং ইন্সটিটিউটিশন ( বিএসটিআই) এর অনুমোদন লাগে। কিন্তু এসব কারখানায় উৎপাদিত তেলের বিএসটিআই এর কোন অনুমোদন নেই। অথচ বিএসটি আই এর লোগো এবং নাম্বার ব্যবহার করে তেলের বোতলে স্টিাকার লাগানো হয়েছে। বাজারে পরিচিত কোম্পানীগুলোর নামের খুব কাছাকাছি নাম এবং লোগোর মতো করেই স্টিকার তৈরী করা হয়েছে।

সাধারন ক্রেতারা এসব স্টিকার দেখে সহজেই প্রতারিত হচ্ছেন। বোতলে তেলের পরিমাপও ঠিক নেই। এক লিটার ওজনের তেলের বোতলে অন্ততঃ ১শ গ্রাম তেল কম দেয়া হয়। অসাধু ব্যবসায়িরা হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা।

জানা গেছে, বোতলের গায়ে সয়াবিন তেল লেখা থাকলেও তা আসলে পাম ও সয়াবিনের মিশ্রনে তৈরী। পঞ্চগড়ের আশে পাশের জেলা গুলোর গহীণ গ্রামেও এসব কারখানা গড়ে উঠেছে।

বোদা উপজেলার মেসার্স আলম এন্ড ব্রাদার্স বাজারজাত করছে গৃহিনী সয়াবিন ও পাম তেল। এই কোম্পানীর ৯ টি খাদ্য সামগ্রী বাজারে বিক্রী করছে। কিন্তু ৪ টির অনুমোদন থাকলেও সয়াবিন তেল সহ অন্যান্য দ্রব্যের কোন অনুমোদন নেই।

কোম্পানীর প্রোপাইটার আফতাবুর হোসেন জানান, বিএসটিআই লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছি। গত নভেম্বর মাস থেকে আপাতত পরীক্ষামূলক বাজারে বিক্রি করছি।

বোদা উপজেলার বুকতলঝুলা এলাকার আশরাফুল (৫৫) বলেন, আমরা তো এতোকিছু জানিনা। দোকানে গেলে সয়াবিন তেল চাই। দোকানদার যা দেয় নিয়ে যাই। কিন্তু ওজনে কম পাই।

এদিকে জেলা জুড়ে চলছে অবৈধভাবে চা পাতার প্যাকেটজাত।  নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে  দেশীয় দামি ব্রান্ডের চা পাতার প্যাকেটজাত অবিকল নকল করে জেলাজুড়ে ব্যাঙের ছাতার ন্যায় গড়ে উঠেছে চা পাতার কোম্পানি হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। প্রতারিত হচ্ছে ক্রেতাসাধারণ যাদের দেখভাল করার কথা অনেকটা নিরব তারা জনসাধারণের মধ্যে কৌতুহল জেগেছে। পঞ্চগড় জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক পরেশ চন্দ্র বর্মন বলেন আমরা এ বিষয়ে তৎপর রয়েছি।

গতমাসে পঞ্চগড় সদর উপজেলার রাজনগর এলাকায় ইসলাম ওয়েল এন্ড ফুড ফ্লাওয়ার মিল কে জরিমানা করা হয়েছে। আমাদেরকে কেউ তথ্যদিলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 dainikjonokotha.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com