রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:২৭ পূর্বাহ্ন

রংপুরে করোনা হাসপাতালের বরাদ্দকৃত ৫০ আইসিইউ এর মধ্যে রয়েছে মাত্র ২৩টি

হীমেল মিত্র অপু,স্টাফ রিপোর্টার:
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল, ২০২১

রংপুরের ডেডিকেটেড করোনা আইসোলেশন হাসপাতালে ৫০টি আইসিইউ শয্যা স্থাপনের বরাদ্দ ঘোষণা হলেও তা কার্যকর হয়নি। গত বছরের এপ্রিলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওই ঘোষণার পরও মাত্র ১০টি আইসিইউ শয্যা দিয়ে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট নবনির্মিত রংপুর শিশু হাসপাতালটিকে ডেডিকেটেড করোনা আইসোলেশন হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ হাসপাতালে ১০টি আইসিইউ ও ৯০টি সাধারণ শয্যা স্থাপন করা হয়।

শুরুতে রংপুর ও দিনাজপুর মিলে ২৬টি আইসিইউ শয্যা দিয়ে বিভাগের আট জেলার করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা চললেও দ্বিতীয় টেউ মোকাবিলায় রংপুরে মাত্র ১৩টি শয্যা বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ ৫০টি আইসিইউ শয্যা বরাদ্দ থাকলেও এপর্যন্ত বসেছে মাত্র ২৩টি।

তবে রোগীর স্বজনসহ বিশিষ্টজনরা বলছেন, একটি বিভাগে করোনা আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসা সেবার জন্য এই সংখ্যা একেবারেই অপ্রতুল। বিভাগের প্রতিটি জেলায়ই আইসিইউ সুবিধা নিশ্চিত করা না গেলে অনেকেই বিনা চিকিৎসায় মারা যাবেন। দ্রুত আইসিইউ শয্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের এপ্রিলে রংপুরে ডেডিকেটেড করোনা আইসোলেশন হাসপাতালে ১০টি এবং ওই সময়ে দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬টি শয্যা স্থাপনের মধ্য দিয়ে করোনা রোগীদের আইসিইউ সুবিধা দেওয়া শুরু হয়। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে রংপুরের ডেডিকেটেড করোনা আইসোলেশন হাসপাতালে ৫০টি আইসিইউ শয্যা স্থাপনের বরাদ্দ দিলেও প্রথম পর্যায়ে ১০টি স্থাপনের পর থেমে যায় বাকিগুলোর কাজ। একবছর পর আবার করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় আইসিইউ বেড বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ফলে মাত্র ১৩টি শয্যা বাড়ানো হয়।

রংপুর বিভাগে প্রতিদিন করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সংক্রমণের সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। যতই দিন যাচ্ছে ততই করোনার ভয়ঙ্কর আঘাতে চিকিৎসা সেবা নিয়ে শঙ্কিত হচ্ছেন আক্রান্তরা। বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগীদের জন্য সহসা মিলছে না আইসিইউ সুবিধা। চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল আইসিইউ শয্যা থাকায় কাঙ্খিত সেবা দিতে বেসামাল পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন চিকিৎসাকরা।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের আট জেলার করোনা রোগীদের জন্য প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল হলেও রংপুর ও দিনাজপুর ছাড়া বাকি ছয় জেলা পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় কোনো আইসিইউ সুবিধা নেই। এছাড়া রংপুর বিভাগের আট জেলায় বিশেষায়িত ১২টি হাসপাতাল রয়েছে। এসব হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ডে শয্যা রয়েছে ৫৩২টি। এর মধ্যে রংপুর ডেডিকেটেড করোনা আইসোলেশন হাসপাতালে ১০০টি, রংপুর বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ২০টি, হারাগাছ হাসপাতালে ৩১টি, দিনাজপুরে এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৫০টি, পঞ্চগড় আধুনিক হাসপাতালে ২০টি, নীলফামারীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ১০০টি, কুড়িগ্রামে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ৫০টি, ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ৫০টি, গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ২০টি, লালমনিরহাট নার্সিং কলেজে ১২টি, লালমনিরহাট রেলওয়ে হাসপাতালে ১৫টি এবং লালমনিরহাট সরকারি কলেজের মহিলা হোস্টেলে ৬৪টি শয্যা রয়েছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 dainikjonokotha.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com