রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ০১:৪২ পূর্বাহ্ন

রংপুরে শ্যামাসুন্দরী ও কে.ডি খাল খনন সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন

হীমেল মিত্র অপু, স্টাফ রিপোর্টার
  • Update Time : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

রংপুরে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কবল থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করতে শ্যামা সুন্দরী ও কে.ডি খাল খনন – সংস্কার এবং অপরিকল্পিত নগরায়ন নয়-মহাপরিকল্পনার আলোকে নগর সাজানোর দাবিতে আজ ৩০ সেপ্টেম্বর’২০ বুধবার সকাল ১১ টায় স্থানীয় প্রেসক্লাব চত্বরে জলাবদ্ধতার ভুক্তভোগী রংপুর নগরবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক সংগঠক ও সাবেক ছাত্রনেতা পলাশ কান্তি নাগ এর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রাজনীতিবিদ মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাৎ হোসেন, মোজাফফর হোসেন চাঁদ, শিক্ষক বনমালী পাল, সাবেক ছাত্রনেতা রাতুলুজ্জামান রাতুল, শ্রমিক নেতা রেদওয়ান ফেরদৌস, রোস্তম আলী, শিক্ষানবীশ আইনজীবী স্বপন কান্তি নাগ, শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সংগঠক আব্দুস সাত্তার বকুল,নিপীড়ণ বিরোধী নারীমঞ্চের সংগঠক সুলতানা আক্তার সহ অনেকেই।

সমাবেশটি পরিচালনা করেন সাংস্কৃতিক কর্মী নাসির সুমন।
বক্তারা বলেন,এক রাতের টানা বর্ষণে রংপুর নগরী তলিয়ে যাবে এটা কেউ কখনো কল্পনাও করতে পারেনি। নগরীর প্রায় প্রতিটি রাস্তা-ঘাট,বাসা-বাড়ীতে জলাবদ্ধতার কারণে মানুষের দূর্ভোগের শেষ নেই। পানিবন্দী মানুষ খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে রয়েছে। অনেকের ঘরের মূল্যবান আসবাবপত্র,জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে,ভেসে গেছে পুকুরের মাছ।

আজ এই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো না। শ্যামাসুন্দরী ও কে.ডি খাল অবিরাম এই বর্ষণের পানি ধারণ করতে পারতো। কিন্তু শ্যামাসুন্দরী ও কে.ডি খাল ক্রমাগত দখল ও ভরাট হওয়ার কারণে তা হয়নি। পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ন ও দূর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থাও অনেকাংশে দায়ী। আজকে শ্যামাসুন্দরী খালকে ময়লা-আবর্জনা ফেলার ডাস্টবিনে পরিণত করা হয়েছে।

৪৮২ জন দখলদারের কারণে শ্যামাসুন্দরী খালের জায়গা সংকুচিত হয়ে আসছে। ১৮৯০ সালে ডিমলার রাজা জানকিবল্লভ সেন রংপুর নগরীবাসীকে ম্যালারিয়া রোগে হাত থেকে রক্ষা করতে ১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই খালটি খনন করে। এক সময় খাল ২৩ থেকে ৯০ ফিট পর্যন্ত প্রসস্ত ছিল। বর্তমানে খালটি ১৫ -২০ ফিটে পরিণত হয়েছে।
বুড়িগঙ্গা দখলমুক্ত হলে শ্যামাসুন্দরী কেন হবে না?
বিগতদিনে শ্যামাসুন্দরীতে ঘিরে কাঙ্খিত কোন কাজ হয়নি। বাজেট-বরাদ্দের সিংহভাব লুট হয়ে। শ্যামাসুন্দরী সংস্কার এখন সময়ের দাবি। সেই সাথে পরিকল্পিত ও টেকশই নগরায়ন এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।

বক্তারা, অবিলম্বে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কবল থেকে নগরীবাসীকে রক্ষা করতে শ্যামা সুন্দরী এবং কে.ডি খাল খনন ও সংস্কার, মহাপরিকল্পনার আলোকে নগরকে গড়ে তোলার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 dainikjonokotha.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com