মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
কুড়িগ্রামে বিএনপি নেতার মৃত্যুতে জেলা বিএনপির শিশু বিষয়ক সম্পাদকের শোকবার্তা পাবনায় নিখোঁজ হওয়া শিশুকে ৩৬ ঘন্টার মধ্যে আশুলিয়া থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ নোয়াখালীতে ১২ মামলার আসামী অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার পঞ্চগড়ে প্রতিবন্ধী ভাতা‘র টাকা মেরে দিলেন ইউপি সদস্য  রৌমারীতে পরকীয়ার জেরে যুবক খুন নওগাঁয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে হাসি ফুটলো ৫০২ ভূমিহীন পরিবারের মুখে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা! বন্ধ করে দেওয়া হবে ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান জমি সহ সুসজ্জিত পাকাঘরে স্থায়ী নিবাস হচ্ছে কুড়িগ্রামের ১১শ ভূমিহীনের গৃহহীন পরিবারের মাঝে জমি ও গৃহ প্রদান কার্যক্রম ভার্চুয়ালে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী 

বেড়িবাঁধ নিয়ে উপকূলবাসীর শঙ্কা

ডেস্ক নিউজ:
  • Update Time : বুধবার, ২৬ মে, ২০২১

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ইয়াস অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ঝড়টি বুধবার (২৬ মে) দুপুরে উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। ঝড়ের প্রভাবে সকাল থেকে উপকূলীয় এলাকায় রোদ বৃষ্টির খেলা চলছে। কড়া রোদে শরীর পুড়ছে, আবার হালকা বৃষ্টিতে ভিজতে হচ্ছে। ইয়াস নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার কমতি নেই খুলনাসহ উপকূলীয় এলাকার মানুষের মধ্যে। তাদের দুশ্চিন্তার অন্যতম কারণ দুর্বল বেড়িবাঁধ। এখন পর্যন্ত খুলনার উপকূলীয় কোনও এলাকায় বেড়িবাঁধ ভাঙার খবর পাওয়া যায়নি। তবে, মঙ্গলবার কয়রার ২-৩টি স্থানে জোয়ারের চাপে বাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করতে দেখা যায়। স্থানীয়রা বলছেন, দুপুরের জোয়ারের প্রভাব নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।

এদিকে সিডর, আইলা, বুলবুল, আম্পানের ক্ষত এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি উপকূলের মানুষ। এখন ইয়াসের প্রভাবে খুলনার কয়রা, দাকোপ ও পাইকগাছার বিভিন্ন এলাকায় বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে। মঙ্গলবার দিনব্যাপী চলে রোদ বৃষ্টি-মেঘের লুকোচুরি। থেমে থেমে হালকা ও মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি কমাতে খোলে হয়েছে সহস্রাধিক সাইক্লোন শেল্টার।

কয়রা উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, প্রকৃতিক যে কোনও দুর্যোগের খবরে কয়রার মানুষ আতঙ্ক আর উদ্বেগের মধ্যে থাকেন। প্রবল ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের খবরেও কয়রার মানুষ চরমভাবে শঙ্কিত। এখনও পর্যন্ত কোনও বিপর্যয় না ঘটলেও মানুষ দুশ্চিন্তায় রয়েছে। দুপুরের জোয়ার ও পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের অপেক্ষা করছেন তারা।

কয়রার লিঙ্কন হাকদার জানান, সকালেই রোদ উঠেছে। আবার থেকে হালকা বৃষ্টিও হচ্ছে। এ অবস্থার মধ্যে মানুষের দৃষ্টি এখন বিভিন্ন এলাকার ঝুঁকিপুর্ণ বেড়িবাঁধে। দুপুরের জোয়ারের চাপে কী অবস্থা হবে তাই এখন দেখার অপেক্ষায় তারা।

এদিকে সিপিপি, রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবীর পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড়ের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলয়া এবং নিরাপত্তায় কাজ করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও।

খুলনার আঞ্চলিক আবহাওয়া কার্যালয়ের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ বলেন, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি আরও উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বুধবার দুপুর নাগাদ উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এই ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে উপকূলবর্তী জেলা এবং নিম্নাঞ্চলে ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া এবং ভারী বর্ষণ হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় আর পূর্ণিমার প্রভাব থাকায় নদীর পানি স্বাভাবিক জোয়ারের থেকে তিন থেকে চার ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। দুই দিনে খুলনায় ২১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ৯ মিলিমিটার এবং সোমবার ১২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক জোয়ার্দার বলেন, খুলনার ৯ উপজেলার এক হাজার ৪৮টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রয়েছে। এখানে ধারণক্ষমতা প্রায় চার লাখ। প্রস্তুত রয়েছে ১১৬টি মেডিক্যাল টিম।

খুলনার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ হলো কয়রা। উপজেলায় ১৫৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে, যার প্রায় অর্ধেক ঝুঁকিপূর্ণ।

পাউবো সাতক্ষীরা বিভাগ-২-এর পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশিদুর রহমান বলেন, কয়রা উপজেলার ২৪টি স্থানের বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ। ইয়াসের প্রভাব থেকে কয়রাবাসীকে বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে সেই স্থানগুলোতে কাজ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার সকালে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের তুলনায় ৪ থেকে ৫ ফুট বেড়ে যায়। জোয়ারের পানি এমন থাকলে খুব বেশি সমস্যা হবে না। তবে যদি পানির উচ্চতা ৮ থেকে ১০ ফুট হয় ও বাতাসের তীব্রতা বাড়ে, তাহলে বাঁধ টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

খুলনার কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, জোয়ারের পানি বেড়েছে। দু-একটি স্থানে বেড়িবাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করেছে। এসব স্থানে চেয়ারম্যান, স্বেচ্ছাসবক, স্থানীয় জনগণ বাঁধ রক্ষায় কাজ করছেন। উপজেলায় ১১৮টি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ৬৫ থেকে ৭০ হাজার মানুষের ব্যবস্থা রয়েছে।

পাইকগাছা ইউএনও এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলার ১০৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৫৯ হাজার মানুষ থাকতে পারবে। তিন হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে আসা মানুষের জন্য শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৩০ হাজার বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট রাখা হয়েছে। চিকিৎসাসেবায় ১১টি মেডিক্যাল টিম রয়েছে। একটি অ্যাম্বুলেন্স, পাঁচটি মাইক্রোবাস প্রস্তুত রয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে দুটি নসিমন প্রস্তুত রাখা হয়েছে অতি জরুরি উদ্ধারকাজের জন্য। ঘূর্ণিঝড় বিষয়ে সচেতনতার জন্য মাইকিং করা হয়েছে।

তিনি বলেন, উপজেলার গড়ইখালী উত্তর পুংখালী এবং দেলুটির একটি বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। সেখানে বালুর বস্তা ফেলা হয়েছে। সোলাদানা ইউনিয়নের একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের অবস্থা নাজুক। অতিজোয়ারে কী অবস্থা হবে বোঝা যাচ্ছে না। প্রচণ্ড জোয়ারের চাপ।

দাকোপ ইউএনও মিন্টু বিশ্বাস বলেন, উপজেলায় ১২৩টি আশ্রয়কেন্দ্র ৮০ হাজারের বেশি মানুষ থাকতে পারবে। ইতোমধ্যে খাবারের ব্যবস্থাসহ সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, সাইক্লোন শেল্টারসহ সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে উপকূলীয় কয়রা, দাকোপ, পাইকগাছা ও বটিয়াঘাটা উপজেলাকে। বেড়িবাঁধকে আমরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। মেডিক্যাল টিম, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও পর্যাপ্ত শুকনা খাবার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রস্তুত রয়েছে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীও। ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে ফায়ার সার্ভিস, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও কোস্টগার্ড।

খুলনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের কোনও ছুটি নেই। কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ ও বটিয়াঘাটা থানা এলাকায় সহস্রাধিক পুলিশ সদস্য কাজ করছেন। প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপত্তায় পুলিশ সদস্যরা কাজ করবেন। মানুষের নিরাপত্তাকে মাথায় রেখে সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 dainikjonokotha.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com