মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
কুড়িগ্রামে বিএনপি নেতার মৃত্যুতে জেলা বিএনপির শিশু বিষয়ক সম্পাদকের শোকবার্তা পাবনায় নিখোঁজ হওয়া শিশুকে ৩৬ ঘন্টার মধ্যে আশুলিয়া থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ নোয়াখালীতে ১২ মামলার আসামী অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার পঞ্চগড়ে প্রতিবন্ধী ভাতা‘র টাকা মেরে দিলেন ইউপি সদস্য  রৌমারীতে পরকীয়ার জেরে যুবক খুন নওগাঁয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে হাসি ফুটলো ৫০২ ভূমিহীন পরিবারের মুখে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা! বন্ধ করে দেওয়া হবে ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান জমি সহ সুসজ্জিত পাকাঘরে স্থায়ী নিবাস হচ্ছে কুড়িগ্রামের ১১শ ভূমিহীনের গৃহহীন পরিবারের মাঝে জমি ও গৃহ প্রদান কার্যক্রম ভার্চুয়ালে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী 

চা প্রেমিদের তিন লেয়ারের চা; নেট দুনিয়ায় ভাইরাল

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১০ জুন, ২০২১

চা একটি অক্ষরের শব্দ। পানির পর চা’ই একমাত্র পানীয় যা বিশ্বে সর্বাধিক পান করা হয়ে থাকে। গল্পে চা, কবিতায় চা, গানে চা, ভ্রমণে চা, সাহিত্য, রম্যরচনা এক কথায় চা প্রেমিদের কাছে সবকিছুই চা ময়। এক কাপ চা ছাড়া যেন তাকে কল্পনাই করা যায় না, এক কাপ চায়ে যেন তাকে চা’ই চাই। চা নিয়ে চলছে প্রতিযোগিতা, চলছে গবেষণা। রয়েছে চায়ের জন্য দিবস।

কোথাও যেন সুদূর পথ পাড়ি দিয়ে, কেউ রিক্সায়, কেউ অটোয়, কেউ মোটর সাইকেল, কেউ বাই সাইকেল চালিয়ে আবার কেউবা নৌকাযোগে এসে লাইন করছে এক কাপ চা পান করার জন্য। আবার কেউবা কৌতুহলে এসে লাইনে দাড়াচ্ছে। চায়ের জন্য যেন এক প্রকার হুড়োহুড়ি। কি দিন, কি রাত। সব সময় চা খোরদের জন্য ভীর লেগেই আছে। আহ্ কি তৃপ্তি। চা পান করে কেউ কেউ ফেইসবুকে হরেক সঙ এর পোজ দিয়ে সেলফি তুলছে, কেউবা Kurigram Foodbuzz এ দিচ্ছে রিভিউ। এ আবার কেমন চা! জানতে তো ইচ্ছে করছে খুব।

হ্যাঁ। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মোগলবাসা ইউনিয়নের দছিমুদ্দির মোড়ে সন্ধান মিলেছে তেমনি একটি চায়ের দোকানের। যেখানে মিলছে তিন লেয়ারের চার প্রকারের চায়ের। হরেক স্বাদ, ভিন্ন ভিন্ন গন্ধে অতুলনীয় এই চা। দামে কম, মানে ভালো এই দূর্লভ বস্তুর। দূর্লভ বলার কারন কুড়িগ্রাম জেলায় এটিই একটিমাত্র চায়ের দোকান যেখানে মিলছে এই তিন লেয়ারের চা। কুড়িগ্রাম জেলা সদর থেকে ক্যাতার মোড় হতে দুই কিলোমিটার পূর্ব দিকে দছিমুদ্দির মোড় অবস্থিত।

কুড়িগ্রামে ভাইরাল হওয়া তিন লেয়ারের চা

ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য এই চায়ের অসিলায় হতে পারে ফ্রী ধরলা নদীর পারে গিয়ে এক মুঠো হাওয়ায় নিজেকে জুড়িয়ে নেওয়া। তার কারন চায়ের দোকানের পাশেই ধরলা নদী। আহ্ কি যে এক ভালোলাগা। প্রিয় মানুষটি যদি থাকে পাশে তাহলে তো কথাই নেই।

দোকানের মালিকের কাছে জানতে পারি তিনি প্রায় বিশ বছর ধরে দছিমুদ্দির মোড়ে ছোট্ট একটি দোকান পেতে সেখানে শুধু চা’ই বিক্রি করতেন। কিন্তু তার দোকানটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাস্তা প্রসারণের সময় ভাঙ্গা পরে এবং করোনার নীল থাবায় তিনি নিরাশ হয়ে পড়েন। এরপর নিরাশাকে ছুড়ে ফেলে তিনি রাস্তার পাশেই আবার গড়ে তোলেন চা দোকান। নেন ভিন্নধর্মী পরিকল্পনা। শুরু করেন লেয়ার চা বানিয়ে নতুন করে জীবন যুদ্ধের অধ্যায়। প্রতিবন্ধী ছোট ভাইকে নিয়ে এ যুদ্ধে নেমে পড়েন তিনি। প্রতি দিন সকাল ৬ টা থেকে রাত ১ টা বা তারও অধিক সময় পর্যন্ত বহু দূর দূরান্ত থেকে ভ্রমণ পিপাসু আর চা খোররা আসেন এক চুমুক চা খেতে। মাত্র ৫ টাকাতেই মিলছে তিন লেয়ারের চার প্রকারের চা।

চা দোকানী দুই ভাই ঐ ইউনিয়নের সৈনিকপাড়া গ্রামের মোঃ জোবেদ আলীর পুত্র মোঃ রোস্তম আলী(৩৮) ও প্রতিবন্ধী ছোট ভাই মোঃ ভোলা(৩৪) মিয়া।

তাদের সাথে কথা বললে তারা জানান, ভবিষ্যতে আমরা আরও লেয়ার বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আর চা একদম প্রাকৃতিক গুণসম্পন্নই থাকবে। কোনো প্রকার রাসায়নিক এখন ব্যবহার করা হয় না ভবিষ্যতেও হবে না।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 dainikjonokotha.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com