রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ০২:০৫ পূর্বাহ্ন

সরিষাবাড়ীর তরুণ প্রজন্ম আইডল  মানতে শুরু করেছে সোহেল তরফদারকে!

মোঃ জহুরুল ইসলাম ভূঁইয়া, জামালপুর প্রতিনিধি
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২০

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রুপকল্প’ ৪১ মাথায় রেখে সরিষাবাড়ী পৌরসভাকে ঢেলে সাজাতে নিজের করা নীল নকশা সবার সামনে তুলে ধরে পৌর সুধীমহলের প্রশংসায় ভাসছেন মেয়র প্রত্যাশী সোহেল তরফদার।

 

বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে এ দূরদর্শী, সৃজনশীল ও স্বচ্ছ কর্মপরিকল্পনার জন্য তার গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকে সৎ, যোগ্য, মেধাবী, সৃজনশীল এবং সফল ব্যবসায়ী হিসেবে সোহেল তরফদারকে আইডল মানতে শুরু করছে।

 

এব্যাপারে তিনি বলেন, “দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৫ শতাংশ তরুণ। এই তরুণদের আলাদা ধর্ম আছে। তারা তাদের মতো করে থাকতে চায়, বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে চায়, নির্মল আড্ডার জায়গা চায়, নিজেদের কথা সবাইকে জানাতে চায়। বিশ্বকে নিজেদের মতো করে দেখতে ও দেখাতে চায়। নিজেদের তারা একটি স্মার্ট শহরের অধিবাসী হিসেবে দেখতে পছন্দ করে।

আমি সেই স্মার্ট শহর বিনির্মাণে নিজেকে নিয়োজিত করেছি, এবং তা করবোই ইনশাল্লাহ।”

 

কর্মপরিকল্পনার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন,” আমি বাস্তব পরিকল্পনায় বিশ্বাসী। সরিষাবাড়ীর মানুষ চায় একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও উন্নত শহর। আর এটাকেই আমি প্রাধান্য দিয়ে পরিকল্পনা সাজিয়েছি।

 

শহরকে নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও উন্নত শহর গড়ার লক্ষ্য পৌরবাসীর  সামনে তিনি প্রাথমিকভাবে ৭ টি কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছেন —

 

“আধুনিক বিশ্বের যতগুলো সুন্দর শহর গড়ে উঠেছে তার প্রত্যেকটি শহরই কোন না কোন নদী বা খালের পাড়ে গড়ে উঠেছে। ঠিক একইভাবে ব্রিটিশ আমলের শেষের দিকে দুইটি হাট, বাউসী ও  আরামনগর এবং একটি বাজার ও আবাসিক এলাকা হিসেবে শিমলা বাজারকে ব্রিটিশরা নয়নাভিরাম স্থাপত্য পরিকল্পনায় “সরিষাবাড়ী টাউন হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। যার পেছনে অন্যান্যের মধ্যে অগ্রজ ভ‚মিকায় ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মরহুম হারুনর-রশিদ তরফদার স্যার এর পিতা মরহুম ফয়েজ উদ্দিন তরফদার সাহেব (যিনি আমার দাদা), তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে “সরিষাবাড়ী পৌরসভা”। ২১.১০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে নয়নাভিরাম স্থাপত্য নকশায় গড়ে ওঠা সরিষাবাড়ী টাউনের চারদিক দিয়েও ছিল দুটি খাল একটি সুবর্ণখালী অন্যটি ঝিনাই। যার কারণে ব্যবসা বাণিজ্য এবং মালামাল পরিবহন সহ অতিবৃষ্টি ও বন্যার পানি নিষ্কাশনের কোন সমস্যা হতো না।  আজ প্রায় ৩০ বছর সরিষাবাড়ী পৌরসভা গঠিত হলেও এই খাল গুলিকে সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বরং খালের মুখে বাঁধ এবং বিভিন্ন জায়গায় নিচু ব্রিজ হওয়ার কারণে নৌপথের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে যার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যের যেমন ক্ষতি হয়েছে ঠিক তেমনি অতিবৃষ্টি এবং বন্যার পানি নিষ্কাশনের জায়গা গুলো বন্ধ হয়ে গেছে। ফলশ্রæতিতে সামান্য বৃষ্টি ও বন্যায় শিমলাবাজার, আরামনগর বাজার সহ অন্যান্য এলাকাগুলো হাঁটু সমান পানি জমে যায়। অন্যান্য সময়ের বন্যার মত এবারের বন্যায়ও সরিষাবাড়ী পৌরবাসী তা উপলব্ধি করতে পেরেছে।

 

আমি বিশ্বাস করি একটি এলাকার উন্নয়নের সাথে ঐ এলাকায় বসবাসরত জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমরা যদি সেদিকে লক্ষ্য করি পৌরসভার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ পর্যন্ত পৌরবাসীর অর্থনৈতিক উন্নয়নে নুন্যতম পরিকল্পনাও এ পর্যন্ত হাতে নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি পৌর এলাকার জনগণ ব্যবসা বাণিজ্য করে তারা নিজেদেরকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাবে সেদিকেও যথেষ্ট নজর ছিল না কোন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরই। উল্লেখিত বিষয়াদি সহ আরও নানাবিধ জনদূর্ভোগ এই জনপদের অনেক সচেতন নাগরিকের মতো আমারও দৃষ্টিগোচর হওয়ায় পুঞ্জিভ‚ত এই সমস্যা গুলো আমার মেধা, শ্রম, যোগ্যতা দক্ষতা দিয়ে সমাধানের লক্ষ্যে আসন্ন সরিষাবাড়ী পৌরসভা নির্বাচনে আমি নিজেকে নৌকা প্রতীকের মেয়র পদে প্রতিদ্ব›দ্বীতা করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছি। সে অনুযায়ী আমি আমার সংক্ষিপ্ত কর্মপরিকল্পনা আমার প্রিয় সরিষাবাড়ী পৌরবাসীর সম্মুখে তুলে ধরছি।

 

১. রূপকল্প ২০৪১ অনুযায়ী  টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করণ :

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক প্রদত্ত “রূপকল্প ২০৪১” অনুসারে সুখী, সমৃদ্ধ বাংলাদেশের

উন্নত পৌর শহর হিসেবে সরিষাবাড়ীকে গড়তে দীর্ঘ ২০ বছর মেয়াদী মহা পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং প্রতিটি উন্নয়ন মূলক কার্যক্রমের মান নিরূপণ করে অন্তত দশ বছর স্থায়ীত্ব নিশ্চিত করণ। এক্ষেত্রে ড্রেনেজ, সড়ক যোগাযোগ, সড়ক বাতি সহ অন্যান্যা বিষয়ের গুরুত্ব আরোপ করে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

 

২. ঐতিহ্যের সরিষাবাড়ীকে পুনর্জীবিত করা:

বৃটিশ শাসনামলে নয়নাভিরাম স্থাপত্য পরিকল্পনায় গড়ে উঠা সরিষাবাড়ীর ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করে অগ্রজদের সামনে রেখে কিশোর-যুব সমাজের মাঝে সাহিত্য-সংষ্কৃতিক চর্চা, ক্রীড়া, স্কাউট আন্দোলন সহ সমাজ সেবা মূলক কর্মকান্ডে যুব সমাজকে সম্পৃক্ত করে সামাজিক

অবক্ষয় থেকে ফিরিয়ে এনে সরিষাবাড়ী শহরের ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করা।

 

৩. সবুজায়ন ও পরিবেশ বান্ধব সরিষাবাড়ী:

সবুজায়ন সহ পৌরসভার সকল জলাশয়-খাল, সংস্কার, উন্নয়ন ও দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে ওয়াকওয়ে তৈরি করে অতি বৃষ্টি এবং বন্যাজনিত কারণে জলাবদ্ধতা নিরসনে ও স্বচ্ছ পানি প্রবাহ নিশ্চিত করে টেকসই পরিবেশ বান্ধব শহর গড়ে তোলা।

 

৪. মৌলিক সুবিধাদি সুনিশ্চিতকরণ :

শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ সহ বহুমাত্রিক উন্নয়নের ধারায

এই জনপদের মাটি ও মানুষকে উদ্ভাসিত করে মানুষের জীবন মানের উন্নয়ন ঘটানো।

 

৫.সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা :

মাদক নির্মূল, কিশোর অপরাধ, জুয়াসহ নৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয়জনিত বিভিন্ন অপরাধ রোধ সহ

এলাকা ভিত্তিক সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

 

 

৬. প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন :

সরিষাবাড়ী পৌরসভাকে ১ম শ্রেণীর পৌরসভায় উন্নীত করার লক্ষ্যে  যথাযথ কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করে পৌর এলাকাকে ১ম শ্রেণীর আধুনিক শহর ও দূর্নীতিমুক্ত সায়ত্বশাসিত পৌরসভায় উন্নীত করতে সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে পৌর এলাকাকে আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলে পৌর বাসীর উন্নত সেবার মান নিশ্চিত করণ।

 

৭. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা :

জবাবদিহীতা সুনিশ্চিত করতে জনতার মুখোমুখী “মেয়র শীর্ষক” মাসিক মত বিনিময়ের মাধ্যমে ওয়ার্ড ভিত্তিক সমস্যার সমাধানে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

 

 

আমরা যদি সবাই মিলে এই কায্যক্রম গুলো  উদ্যোগী হয়ে প্রসারিত দৃষ্টিভঙ্গি এবং ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এ শহর বিনির্মানে অংশগ্রহণ করি – তবে অবশ্যই এই শহরে বহু দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য সরিষাবাড়ী শহর গড়ে উঠবে, যার নেতৃত্বে থাকবেন আপনারা; আমি আপনাদের সেবক হয়ে সঙ্গে থাকতে চাই।

 

আমি বিশ্বাস করি আমাদের ঐতিহ্যের সরিষাবাড়ী বিনির্মাণে আপনারা আমাকে আপনাদের সঙ্গে রাখবেন এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন (উন্নয়নের প্রতীক “নৌকা মার্কা”) পেতে সর্বাত্মক সমর্থন দিয়ে সহযোগিতা করবেন।”

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 dainikjonokotha.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com